নয়া জামানা ডেস্ক : আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডকে অস্ত্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়েছিলেন অমিত শাহ। ব্যারাকপুরের মঞ্চ থেকে মমতার বিদেশ সফরের সঙ্গীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পাল্টা তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নীরব মোদী থেকে মেহুল চোকসী— দিল্লির ‘ঘনিষ্ঠ’ শিল্পপতিদের নাম টেনে এনে বিজেপিকে রীতিমতো আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আনন্দপুরের ঘটনার দায় যদি মুখ্যমন্ত্রীর হয়, তবে গোয়া বা ইনদওরের মৃত্যুর দায় কেন প্রধানমন্ত্রী নেবেন না, সেই প্রশ্নও তুললেন তিনি। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিটি আক্রমণের পাল্টা যুক্তি সাজিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন অভিষেক।
ব্যারাকপুরের কর্মিসভায় অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, আনন্দপুরের মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের মদত। ‘ওয়াও মোমো’র মালিকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেছিলেন, ‘এই কাণ্ড কেন হল? এই মোমো কারখানার মালিকের কাছে কার পয়সা খাটছে? এই মোমো কারখানার মালিক কার ঘনিষ্ঠ? কার সঙ্গে বিমানে বিদেশ সফরে গিয়েছেন? এখনও পর্যন্ত মোমো কারখানার মালিককে গ্রেফতার করা হল না কেন?’ শাহের এই সরাসরি আক্রমণ ঝড়ের গতিতে পৌঁছে যায় তৃণমূল শিবিরে। দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এর কড়া জবাব দেন অভিষেক। তিনি সাফ জানান, শিল্পপতিরা রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে যেতেই পারেন, তাতে অন্যায়ের কিছু নেই। এর পরেই পাল্টা চাল দিয়ে অভিষেক প্রশ্ন করেন, ‘নীরব মোদী গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে!’ মোদীর সঙ্গে পলাতক ব্যবসায়ীদের ছবি ও বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বুঝিয়ে দেন, কাঁচের ঘরে বসে অন্যের বাড়িতে ঢিল ছোড়া উচিত নয়।
আনন্দপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহের ‘লাশের রাজনীতি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘একটা ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির কায়দা। শকুনের মতো মৃতদেহ খোঁজে। মৃত্যুর রাজনীতি করে, লাশের রাজনীতি করে।’ তৃণমূল সাংসদের মতে, কোনও বেসরকারি গুদামের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সরকারের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসন খবর পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয়েছে। অভিষেক আশ্বস্ত করে জানান, ‘যাঁদের গাফলতির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’ এমনকি প্রভাবশালী তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যত বড় শিল্পপতি হোন না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।’ তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। গোয়ার নৈশক্লাবে অগ্নিকাণ্ড এবং ইনদওরে দূষিত পানীয় জলে মৃত্যুর ঘটনা টেনে সরাসরি মোদীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, আনন্দপুরের জন্য মমতা দায়ী হলে বাকি সব ঘটনার জন্য তো প্রধানমন্ত্রী দায়ী।
রাজ্যের বকেয়া টাকা এবং দুর্নীতি নিয়েও শাহের দাবির পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন অভিষেক। শাহ দাবি করেছিলেন, কেন্দ্র বাংলার সরকারকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে যা ‘সিন্ডিকেট’ খেয়ে ফেলেছে। এর জবাবে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুলে অভিষেক বলেন, ২০২১ সালের হারের পর থেকে কেন্দ্র বাংলাকে কত টাকা দিয়েছে তার হিসেব দিক। উল্টে বাংলা থেকে করের টাকা দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। অনুপ্রবেশকারী এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়েও আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। শান্তনু ঠাকুর বা জগন্নাথ সরকারদের নাম টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে দেগে দেওয়া নামের তালিকা প্রকাশ করছে না? অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি কমিশনকে আগেভাগেই লক্ষ্য বেঁধে দিচ্ছে এবং সেই মতো কাজ হচ্ছে। সব মিলিয়ে আনন্দপুরের আগুন এখন রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনীতির ময়দানে পুরোদস্তুর দাবানল হয়ে দাঁড়িয়েছে।