বাপ্পা রায়, নয়া জামানা, শিলিগুড়ি : ভোট গণনা শুর আগেই বিতর্কে জড়াল শিলিগুড়ি ২৬ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র। পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষিত ট্রাঙ্কের তালা খোলা থাকার অভিযোগে রবিবার সকালে শিলিগুড়ি কলেজে উত্তেজনা ছড়ায়। এই অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী গৌতম দেব।
তাঁর দাবি, মোট ছয়টি পোস্টাল ব্যালট বক্সের মধ্যে চারটিতেই তালা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ভোট গণনা প্রক্রিয়া। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেন, সংশ্লিষ্ট চারটি বক্স বাদ দিয়েই গণনা শুরু হবে। অবশেষে শিলিগুড়ি কলেজে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় কাউন্টিং। তবে প্রথমে পোস্টাল ব্যালট বাদ দিয়ে ইভিএমের ভোট গণনাই শুরু করা হয়।
শুধু শিলিগুড়ি নয়, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রেও একইভাবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে গণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে গণনা কেন্দ্রের বাইরে জমায়েত হওয়া কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে গরমিল হলে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইভিএম গণনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সিদ্ধান্ত কমিশনের নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে গণনা কেন্দ্রের ভেতর নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তায় মোবাইল, ড্রোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির গণনা ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনার আবহ।
এখন দেখার বিষয়, বিতর্কের মাঝে শিলিগুড়ি ২৬ নম্বর আসনের ফল কোন দিকে যায়।
শিলিগুড়িতে মমতা-ঝড়! জনসমুদ্রে ভেসে গেল শৈলরানীর প্রানকেন্দ্র