নয়া জামানা ডেস্ক : আগে বঙ্গে ভোট মানেই যেন ছিল সন্ত্রাসের চেনা ছবি। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে অন্য এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল গঙ্গার দু’পার। পঞ্চায়েত বা পুরসভার সেই চিরপরিচিত অশান্তি আর ‘ভূতের নাচন’ উধাও। অন্তত বামেদের দুই লড়াকু মুখ মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও দীপ্সিতা ধরের মেজাজ সেই কথাই বলছে। নিছক অভিযোগের স্তূপ না সাজিয়ে তাঁরা বুথে বুথে লড়াই দিলেন বুক চিতিয়ে। দিনশেষে দুই প্রার্থীরই দাবি, মানুষ নিজের ভোট নিজেই দিয়েছেন। অতীতের হিংসার অন্তত এক আনাও এদিন দেখা যায়নি। উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এদিন রণকৌশল সাজিয়েছিলেন ছক মেপে। তাঁর কাছে ছিল নির্দিষ্ট এলাকার মানচিত্র। কানাইপুর, নবগ্রাম আর কোন্নগরের যে ওয়ার্ডগুলোতে অতীতে ভোটলুটের অভিযোগ উঠত, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানেই পড়ে থাকলেন মিনাক্ষী। সিপিএমের দুর্গ বলে পরিচিত কোতরং এলাকায় সময় নষ্ট না করে তিনি নজর দিলেন ‘দুর্বল’ জায়গাগুলোতে। শেষবেলায় ঢুকলেন উত্তরপাড়া শহর ও মাখলায়। এই লড়াইয়ে মিনাক্ষীর বিপরীতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। ভোটকেন্দ্রে মিনাক্ষী ও শীর্ষণ্যর দেখা হলে সৌজন্যের রাজনীতিও হার মানেনি। অন্য দিকে, দীপ্সিতা ধরের রণকৌশল ছিল ‘অন দ্য স্পট’ অ্যাকশন। উত্তর দমদমে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দীপ্সিতার লড়াই ছিল অলআউট। নিমতা থেকে নিউ ব্যারাকপুর কিংবা বিরাটি— নির্দিষ্ট গণ্ডিতে না থেকে তিনি সারাদিন চষে ফেললেন গোটা এলাকা। আলিপুরের মতো কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির আঁচ পেতেই সেখানে বার বার ছুটে গিয়েছেন তিনি। লাল কুর্তা-সাদা ওড়নায় মিনাক্ষী আর কালো শাড়ি ও রোদচশমায় দীপ্সিতা— দু’জনেই এদিন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। গত লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুরে লড়েছিলেন দীপ্সিতা। সেবার উত্তরপাড়ায় সিপিএম যে ৫০ হাজার ভোটের ভিত গড়েছিল, এবার মিনাক্ষী সেই জমিতেই ফসল তোলার অপেক্ষায়। দীপ্সিতা আবার লড়ছেন সেই কেন্দ্রে, যেখানে ২০১৬ সালে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারতে হয়েছিল সিপিএমের কাছে। যদিও ২০২১-এ চন্দ্রিমা সেই আসন পুনরুদ্ধার করেন। এবার কি তবে পালাবদলের পাল্লা ভারী হবে? দুই বাম প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী ভোট যদি ‘শান্তিপূর্ণ’ হয়ে থাকে, তবে সেই রায় কার পক্ষে যাবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ‘শান্তিপূর্ণ ভোট’ আদতে কার জয়ের পথ চওড়া করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী সোমবার। তবে অভিযোগের পাহাড় সরিয়ে ভোটের দিনই দুই প্রার্থীর এমন ফুরফুরে মেজাজ সাম্প্রতিক বঙ্গ রাজনীতিতে বেশ বিরল।
‘সব বদলে দিন, সরকার বদলাবে না’, মুখ্যসচিবকে সরানোয় তোপ মমতার