নয়া জামানা ডেস্ক : অবসর নেওয়ার কথা ছিল আগামী ৩০ এপ্রিল। কিন্তু তার আগেই নবান্নে এসে পৌঁছল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠি। রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়িয়ে দিল অমিত শাহের মন্ত্রক। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক প্রাক্কালে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, জনস্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৫৮ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) আইন মেনে ১৯৯২ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি। ফলে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদেই থাকছেন সিদ্ধনাথ। নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরেই রাজ্য় পুলিশে রদবদলের হিড়িক পড়েছিল। তৎকালীন ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে কমিশন দায়িত্ব দিয়েছিল সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। শুধু ডিজিপি নন, কলকাতা পুলিশের কমিশনার থেকে শুরু করে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিজি (কারা) পদেও আনা হয়েছিল নতুন মুখ। এমনকি মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের অধীনেই এখন কাজ করছে রাজ্যের প্রশাসনিক যন্ত্র। কমিশনের কড়া নজরদারিতে গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি হলেও বড় কোনও অঘটন ঘটেনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার অগ্রবাল জানিয়েছেন, ‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগ নেই। সর্বত্র সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। আগে ওই সমস্ত কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেও অশান্তি হত। বুথের বাইরে কয়েকটি অশান্তির অভিযোগ এসেছে। তবে কোথাও কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’ প্রথম দফায় কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তি রাজ্যের পুলিশ মহলে বাড়তি তৎপরতা তৈরি করল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতেই সিদ্ধনাথের ওপর আস্থা বজায় রাখল দিল্লি, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে ভোটের বাংলায় পুলিশি রদবদলের আবহে সিদ্ধনাথের মেয়াদ বৃদ্ধি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।