নয়া জামানা ডেস্ক : জল্পনা ছিলই, সোমবার তাতে সিলমোহর দিল সাউথ ব্লক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার নিযুক্ত হলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মার জায়গায় এবার দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। শীঘ্রই তিনি দায়িত্বগ্রহণ করবেন।’ বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিল্লির এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অন্তর্বর্তী সরকার জমানায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আকাশে যে কালো মেঘ জমেছিল, তা কাটাতে দীনেশের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বড় হাতিয়ার হতে পারে। গুজরাতি পরিবারের সন্তান হলেও দীনেশ ত্রিবেদীর বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা কলকাতায়। তিনি শুধু ঝরঝরে বাংলা বলেন তাই নয়, রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল— বাঙালি সংস্কৃতি তাঁর মজ্জায়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল রসায়নে এই ‘সাংস্কৃতিক যোগ’ বড় অনুঘটক হতে চলেছে। বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ারে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল ঘুরে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ। ইউপিএ-২ জমানায় রেল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন তিনি। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তনী ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ দীনেশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নাড়ি চেনেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে লোকসভার সাংসদ হওয়ার পর দিল্লির অলিন্দেও তাঁর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তারেক জমানায় ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণ করা এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য। সে দেশ এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এমন পরিস্থিতিতে একজন দক্ষ রাজনীতিককে কূটনীতিকের ভূমিকায় পাঠিয়ে দিল্লি বুঝিয়ে দিল, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে তারা কতটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে ঠিক কবে তিনি ওপার বাংলায় গিয়ে চার্জ নেবেন, সে বিষয়ে মন্ত্রক এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানায়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, দীনেশের নিয়োগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জট দ্রুত কাটবে। আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে এবার রাইসিনা হিলস থেকে পদ্মা পাড়ে পাড়ি দিচ্ছেন এই ‘বাঙালি অন্তরের’ পোড়খাওয়া রাজনীতিক। ফাইল ফটো।
হোলিকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে হাই অ্যালার্ট, কড়া নজরদারিতে বনদফতর