ভরত বেরা, নয়া জামানা, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন পিংলা বিধানসভার বিধায়ক স্বাগতা মান্না। দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো দুই অনাথ শিশুর দুর্দশার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই বিধায়ক নিজে পরিবারটির বাড়িতে পৌঁছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবরকম সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
পিংলা থানার অন্তর্গত পিংলা হাই স্কুলের পিছনে একটি জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন দুই শিশু। কয়েক বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁদের জীবন কার্যত অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যায়। বর্তমানে দুই শিশুকে মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ছয় বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত শয্যাশায়ী দাদু অমল নায়েক এবং বৃদ্ধা দিদা রানী নায়েক। অভাব এতটাই প্রবল যে অনেক দিনই দু’বেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দুই শিশুর মা দীর্ঘদিন আগে সংসার ছেড়ে চলে যান। পরে বড় শিশুকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
পরিবারের দুরবস্থার খবর সামনে আসতেই প্রথমে সমাজসেবী রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, শিক্ষক ফিতবি মল্লিকের সহযোগিতায় এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়মিত সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি।
এরপর বিধায়ক স্বাগতা মান্না বিডিও লাকপা ওয়াংচু শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারটির বাড়িতে যান। তিনি দীর্ঘক্ষণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুই শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, পোশাক, ত্রিপল-সহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী পরিবারের হাতে তুলে দেন।
বৃদ্ধা রানী নায়েক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম আমাদের কথা আর কেউ শুনবে না। আজ বিধায়ক ও প্রশাসনের লোকজন বাড়িতে এসে খোঁজ নেওয়ায় মনে হচ্ছে আমরা একা নই।”
বিধায়ক স্বাগতা মান্না জানান, দুই শিশুর ভবিষ্যৎ যাতে অনিশ্চয়তায় হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এলাকার বাসিন্দারাও এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, সরকারি সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতায় দুই শিশুর জীবনে আবারও স্বাভাবিক ছন্দ ফিরবে এবং তারা নতুন করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারবে।