আহমেদ বাপি,নয়া জামানা,মালদা: মালদা জেলার গাজোল ব্লকের রানীগঞ্জ ১ অঞ্চলের কমল ডাঙ্গাগ্রামে একটি গুদাম থেকে সরকারি বই সিএনজি অটো করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীরা সিএনজি অটো আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।গোডাউন ভর্তি কয়েক হাজার স্কুল পড়ু্য়াদের জুতো মজুদ করা রয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য সরকারি স্কুলের খাতা। সেই গোডাউন থেকেই একটি সিএনজি গাড়ি করে জুতো ও সরকারি স্কুলের খাতা পাচারের সময় অভিযুক্ত মিল্টন বিশ্বাস ও সিএনজির চালককে হাতেনাতে ধরে ফেললো গ্রামবাসীরা। বুধবার দুপুরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাজোল থানার রানীগঞ্জ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কমলডাঙ্গা এলাকায়। উত্তেজনা ছড়াতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাজোল থানার পুলিশ।মিল্টন বিশ্বাস ও গাড়ি চালককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীরা দুজনকে পচা ডিম ছুঁড়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মিল্টন বিশ্বাসের কমলডাঙায় নিজস্ব বাড়ি এবং গোডাউন রয়েছে। সেখানেই বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জুতো এবং অসংখ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোগো দেওয়া খাতা মজুদ রয়েছে। এই খাতাগুলি অনেক সময় আশেপাশের মুদিখানার দোকানে বিক্রি করতে দেখা যায়। এদিন দুপুরে একটি সিএনজি অটোতে ৮০ বান্ডিল খাতা মজুদ করেই বাইরে পাচারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।তারপরেই গাড়ির ভিতর থেকে অসংখ্য সরকারি খাতা বেরিয়ে আসতে থাকে। আর এতেই ক্ষেপে ফেটে পড়েন কমলডাঙা এলাকার শতাধিক গ্রামবাসীরা। ওই অভিযুক্ত ও সিএনজি চালককে ঘেরাও করে দেখানো হয় বিক্ষোভ। গ্রামবাসী বিজয় ভুঁইমালি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই মিল্টন বিশ্বাসকে এরকমভাবে সরকারি স্কুলের খাতা ও জুতার সরবরাহ করতে দেখছি। কিন্তু ওর কাছে এইসব সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। ওর গোডাউনে অসংখ্য স্কুলের জুতো, খাতা রয়েছে। এগুলো কোথা থেকে আসছে, তার উৎস কি, আর এগুলো কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে তার সঠিক উত্তর আমরা পাই নি। তাই অনুমান করা হচ্ছে সরকারি স্কুলের জুতো ও খাতা বেআইনিভাবে বাইরে কোথাও বিক্রির উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাজোল থানার পুলিশ ড্রাইভার ও অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।