নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই ইস্তফা দিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার সকালেই রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর প্রশাসনিক স্তরে যে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে, এটি তারই অংশ। কিশোর দত্তর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের শীর্ষ আইনি প্রতিনিধিত্বে শূন্যতা তৈরি হলো।
এবারের নির্বাচনে ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গিয়েছে ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিবর্তনের পরেই মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। প্রথা মেনেই বিদায়ী সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিশোর দত্ত নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কিশোর দত্ত তৃণমূল জমানায় দু’বার এই পদে আসীন হয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় রাজ্য সরকার কোণঠাসা হয়ে পড়লে তিনি প্রথমবার ইস্তফা দেন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তবে ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর সৌমেন্দ্রনাথ আচমকা পদত্যাগ করলে আবারও কিশোর দত্তকেই ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এদিন সকালে কিশোর দত্তর পদত্যাগের খবর সামনে আসার আগেই কলকাতা হাইকোর্টে শোরগোল পড়ে যায়। বিজেপির লিগাল সেলের আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানান, রাজ্য সরকার সংক্রান্ত সমস্ত মামলার রায়দান যেন আপাতত স্থগিত রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি সেই আবেদনে আশ্বাস দিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই জানা যায়, সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ইমেইলের মাধ্যমেই রাজ্যপালকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর এটি ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। বর্তমানে হাইকোর্টে রাজ্যের আইনি লড়াই সামলানোর ভার কার কাঁধে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।
রাজ্যে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থেই রদবদল, ‘একচ্ছত্র’ ক্ষমতার প্রশ্নে জবাব কমিশনের