নয়া জামানা, কলকাতা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চিনের বাণিজ্যনগরী সাংহাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে গেল তিলোত্তমা। সোমবার থেকে কলকাতা ও সাংহাইয়ের মধ্যে বিমান পরিষেবা চালু করল ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স। ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে এখন থেকে প্রতিদিন এই রুটে উড়ান চলবে। নয়াদিল্লির পর কলকাতা হল দেশের দ্বিতীয় মেট্রো শহর, যেখান থেকে সাংহাইয়ের সরাসরি বিমান ধরার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। ইন্ডিগোর ‘IndiGo6E’ নামক এই বিশেষ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাংহাইতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রতীক মাথুর।
এদিন রাষ্ট্রদূত স্বয়ং সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই সুখবর ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর মতে, সাংহাই ও কলকাতার এই নতুন আকাশপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ দিশা দেখাবে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কলকাতা ও সাংহাইয়ের এই সেতুবন্ধন নেহাত আধুনিক নয়, বরং এর শিকড় রয়েছে সুদূর ইতিহাসে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩, ১৯২৩ এবং ১৯৩১ সালে মোট তিনবার এই শহর সফর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখেই এই নতুন পরিষেবা দুই দেশের মানুষের মধ্যে ‘পারস্পরিক সম্পর্ক’-কে আরও নিবিড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০২০ সালে অতিমারি পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের আকাশপথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ চার বছর বন্ধ ছিল পরিষেবা।অবশেষে গত বছরের অক্টোবর মাসে সেই সংঘাতের মেঘ কাটলে ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজান এবং গত বছর তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত দুই দফার বৈঠকের পরেই বরফ গলতে শুরু করে। গত জুলাই মাস থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সংস্থাগুলো এখন সাংহাইয়ের সঙ্গে ভারতের বড় শহরগুলোর সংযোগ স্থাপনে তৎপর। বর্তমানে ইন্ডিগো কলকাতা-গুয়াংজু ও দিল্লি-গুয়াংজু রুটে সফলভাবে বিমান চালাচ্ছে। পাল্টা পরিষেবা শুরু করেছে চিনা সংস্থা ‘চায়না ইস্টার্ন’-ও। আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল বেজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে বেজিংয়ের। সোমবারের এই সূচনার পর পূর্ব ভারত ও পূর্ব চিনের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।