ব্রেকিং
  • Home /
  • বিদেশ /
  • পাক-দৌত্যে শান্তির বার্তা, যুদ্ধ বন্ধে ১৫ শর্ত ট্রাম্পের

পাক-দৌত্যে শান্তির বার্তা, যুদ্ধ বন্ধে ১৫ শর্ত ট্রাম্পের

নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ সরানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস তেহরানের কাছে পাঠাল ১৫ দফার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত। সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির পথেও হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। সবথেকে চমকপ্রদ....

পাক-দৌত্যে শান্তির বার্তা, যুদ্ধ বন্ধে ১৫ শর্ত ট্রাম্পের

নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ সরানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ সরানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস তেহরানের কাছে পাঠাল ১৫ দফার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত। সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির পথেও হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যুযুধান দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করছে পাকিস্তান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানই আমেরিকার এই প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তেহরানের ‘সঠিক লোকেদের’ সঙ্গে কথা বলছে আমেরিকা। যুদ্ধ শেষ করতে ইরান এখন ‘মরিয়া’ বলেও দাবি ট্রাম্পের। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য ইসলামাবাদের জমি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে সায় দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করায় পাকিস্তানের এই ‘শান্তিদূত’ অবতার এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যদিও ইরান সরকারিভাবে আলোচনার কথা অস্বীকার করছে, কিন্তু রয়টার্সকে দেওয়া ওই আধিকারিকের বয়ান বলছে অন্য কথা। তাঁর মতে, আলোচনার জন্য পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্কের বিকল্প খোলা রেখেছে তেহরান। ইজরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ এবং ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর রিপোর্টেও এই চাঞ্চল্যকর খবরের সিলমোহর মিলেছে। আমেরিকার পাঠানো এই খসড়া প্রস্তাবে কার্যত ইরানের হাত-পা বেঁধে ফেলার ছক কষেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তার বিদ্যমান সমস্ত পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে কোনও ভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা যাবে না। বর্তমানে মজুত থাকা ৪৫০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র হাতে তুলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ রয়েছে। শর্তের তালিকা এখানেই থামেনি। নাতান্‌জ, ইসফাহান এবং ফোরডোর মতো ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার দাবি জানানো হয়েছে। আইএইএ-কে ইরানের ভেতর স্বচ্ছতা এবং তদারকির পূর্ণ অধিকার দিতে হবে। এছাড়া, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি যাতে কোনও ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত না হয় এবং তেহরান যাতে তাদের অর্থ বা অস্ত্র সাহায্য না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের বাণিজ্যপথ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালী সবসময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও পরিমাণ কত হবে, তাও নির্ধারণ করে দেবে আমেরিকা। বিনিময়ে অবশ্য গাজরও ঝুলিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। শর্ত মানলে ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে এই ‘শান্তি প্রস্তাব’ নিয়ে ইরানের সেনার অন্দরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিন জোলফাগারির বাঁকা মন্তব্য, ‘আমেরিকা চাইছে নিজেদের সঙ্গেই চুক্তি করতে!’ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘায়েই-ও জানিয়েছেন, আমেরিকার কূটনীতির ওপর তাঁদের কোনও ভরসা নেই। আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার এই আলোচনার নেপথ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছে ‘চ্যানেল ১২’। ইজরায়েল এই প্রস্তাবে কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড়। যুদ্ধের প্রথম দিকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’-এর ডাক দিলেও চতুর্থ সপ্তাহে এসে তাঁর সুর কিছুটা নরম। এখন দেখার, ইসলামাবাদের এই দৌত্য তেহরান শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব দেয়।


 

‘ফলপ্রসূ’ আলোচনায় ইরানে, হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর