নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা ভোটের আগে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফের সঙ্গে জোট বাঁধার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল তাঁর। শুক্রবার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, হুমায়ুনের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে কোনও সমীকরণে যাচ্ছে না নওশাদ সিদ্দিকির দল। তবে এই প্রত্যাখ্যানে দমে না গিয়ে উল্টে নওশাদ এবং অধীর চৌধুরীকে জেতানোর অঙ্গীকার করেছেন হুমায়ুন। একক শক্তিতে লড়াই কঠিন বুঝে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট এককাট্টা করতে মরিয়া এই নেতা এখন ‘চাণক্য’ নীতিতে এগোতে চাইছেন। বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও হুমায়ুন এদিন বলেন, ‘আইএসএফের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইএসএফ জোটে শামিল হচ্ছে না। তবু আমি আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকিকে বিধানসভায় পাঠাতে চাই। তাঁকে ভাঙড়ে জেতাতে কিছু রণকৌশল নিয়েছি। এই মুহূর্তে তা বলছি না। বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীও বিধানসভায় যাক আমি সেটা চাই। তাঁকে জেতাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করব।’রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অস্তিত্ব রক্ষাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের কাছে। বাম ও আইএসএফের সমীকরণ যখন স্পষ্ট হচ্ছে, তখন ব্রাত্য হুমায়ুন নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে দুই শিবিরের ওজনদার নেতাদের সমর্থনের তাস খেললেন। এদিকে নওশাদ জানিয়েছেন, রাজ্যে ২৯টি আসনে সিপিএমের সঙ্গে সমঝোতা করে লড়বে আইএসএফ। মুর্শিদাবাদ, রঘুনাথগঞ্জ, হরিহরপাড়া ও ভগবানগোলায় তাঁরা প্রার্থী দিচ্ছেন। তবে ভগবানগোলা নিয়ে তৈরি হয়েছে জট। সেখানে সিপিএম আগেভাগেই প্রার্থী দেওয়ায় তৈরি হয়েছে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’-এর আবহ। যদিও নওশাদ এদিন আবেদন করেছেন, সিপিএম যেন ভগবানগোলার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়। জোটের এই দড়ি টানাটানির মাঝে হুমায়ুনের নিঃশর্ত সমর্থনের বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।