নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলায় ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনভেন্টরি রেক্ট্রিফিকেশন’ নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন অবসানে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ দাবির পাহাড় জমলেও বিচারক সংকটে প্রক্রিয়াটি থমকে ছিল। এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভিন রাজ্যের বিচারক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ২৫০ জন জেলা ও অতিরিক্ত জেলা বিচারক এই ৫০ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির কাজে নিযুক্ত আছেন। শীর্ষ আদালত গাণিতিক বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, যদি এক একজন বিচারক প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি মামলাও নিষ্পত্তি করেন, তবুও এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে। সময়ের এই সীমাবদ্ধতা ও আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের সিভিল বিচারকদের এই প্রক্রিয়ায় মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এই মর্মে আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রধান বিচারপতিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভিন রাজ্য থেকে আসা এই বিচারকদের যাতায়াত এবং থাকার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তবে কমিশন পরবর্তীতে অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।গত ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকেই রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এসআইআর অনুশীলন নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। মূলত তিন শ্রেণির ভোটারদের নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে,ম্যাপ করা ,আনম্যাপ করা, তথ্যগত অসঙ্গতি (যেমন: নামের বানান ভুল বা অভিভাবকের নামের অমিল)
আদালত লক্ষ্য করেছে, বহু ক্ষেত্রে ভোটার ও তাঁদের মা-বাবার বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম অথবা ৫০ বছরের বেশি দেখানো হয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে অকল্পনীয়। এই অসঙ্গতি দূর করতেই কঠোর যাচাইকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি দিয়েছে আদালত। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগের রায় অনুযায়ী মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের পাশাপাশি আধার কার্ডকেও বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন-
বাংলায় বসে দেশজুড়ে নাশকতার ছক, গ্রেপ্তার বাংলাদেশী সহ ৮ পাক জঙ্গি