নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য সরকার বনাম নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েন নিশ্চিত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এসআইআর ইস্যুতে কার্যত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি মেনেই নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব থেকে মাইক্রো বা রোল অবজার্ভারদের সরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবারের নির্দেশে জানানো হয়েছে, এবার থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন আদালত নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের বদলে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর ভরসা রাখা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানের এক বড় নৈতিক জয়।সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এই জুডিশিয়াল অফিসার দের নিয়োগ করবেন। জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার আধিকারিকদের এই কাজে নিযুক্ত করা যাবে। তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশ দেবেন প্রাক্তন বিচারকরা। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এই জুডিশিয়াল অফিসারদের নির্দেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবেই কার্যকর করতে হবে। মূলত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে শীর্ষ আদালত।এদিন আদালতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি পরিকাঠামো ও কর্মীসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করলে জনবল কমে যেতে পারে, যা প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় চাপ সৃষ্টি করবে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তবে রাজ্যের এই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি আদালত। বরং তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এসআইআরের কাজে রাজ্য সহযোগিতা করবে, কিন্তু আপনাদের ভূমিকায় আমরা আশাহত। যদি অফিসার দিতে না পারেন, তবে তা অবিলম্বে কমিশনকে জানান। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, এই অফিসারদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং পুলিশ সুপারদের।সুপ্রিম নির্দেশের পরেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় স্তরে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে একগুচ্ছ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে,কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে।আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসাররা সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসআইআর তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ করা যেতে পারে।আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন-
বিভ্রাট রুখতে ৮৫০৫ অফিসার নবান্নের, সুপ্রিম শুনানিতে আজ ফের কোর্টে মমতা !