নয়া জামানা, মুর্শিদাবাদ : ইদে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর আর্জি, ইদ উপলক্ষে অন্তত তিন দিন ছুটি দেওয়া হোক রাজ্যে। লোকসভা ভোটের মুখে অধীরের এই দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অধীর চৌধুরীর দাবি, দুর্গাপুজোর মতো ইদও বড় উৎসব। তাই উৎসবের মেজাজ বজায় রাখতে ইদের আগের দিন, ইদের দিন এবং পরের দিন, এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন। শুধু ছুটি নয়, রমজান মাসে রেশন বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছেন বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ইদের দিন এতদিন একদিন ছুটি দেওয়া হয়। আমি সেটাই তিনদিন করতে বলছি। যেমন দুর্গাপুজোতে কয়েকদিন ধরে উৎসব পালিত হয়, তেমনই ইদেও কয়েকদিন ধরে উৎসব পালিত হয়। অন্তত যেন তিন দিন দেওয়া হোক।’ ভোটের আবহে অধীরের এই চিঠিতে ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’র গন্ধ পাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি তোপ দেগেছেন অধীরের বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি জটিল করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই চাল চেলেছে কংগ্রেস। অধীরকে বিঁধে জয়প্রকাশ বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা। সম্পূর্ণভাবে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে তৈরি করার চেষ্টা করছেন অধীরবাবু।’ তৃণমূল নেতার পাল্টা প্রশ্ন, অধীরবাবু যখন ক্ষমতায় ছিলেন বা এর আগে কেন এই দাবি তোলেননি? ইদ কি এ বছরই প্রথম হচ্ছে? তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধর্মের মানুষের আবেগকে সম্মান দেন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন। সেখানে অধীরের এই দাবিকে ‘ছেদো কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জয়প্রকাশ। ভোটের মুখে এই ছুটি-তর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
ফাইল ফটো ।
আরও পড়ুন-
তৃণমূল স্তরে বিদ্রোহ রুখতে নতুন আইন , বিধানসভায় পাশ পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল