শুভজিৎ দাস, নয়া জামানা, মথুরাপুর: ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যে সংস্থার দায়িত্ব গণতন্ত্র রক্ষা করা, তারাই এখন গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, “রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
সাংসদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বেআইনি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, স্পেশাল রোল অবজার্ভার সি. মুরুগান নাকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কিছু নির্দেশ পাঠিয়েছেন, যাতে নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাপি হালদারের কথায়, এই ধরনের নির্দেশ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং অসাংবিধানিক।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় আলাদা রোল অবজার্ভার থাকেন এবং তাঁদের নির্দিষ্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেই লগইন তথ্য জেলার বাইরে, বিশেষ করে কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাংসদের আরও অভিযোগ, ডিজিটাল ব্যবস্থার অপব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও নাকি মানা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা না নিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সুবিধা করে দিচ্ছে।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত নির্বাচন কমিশন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। কমিশনের বক্তব্য সামনে এলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বাপি হালদার জানিয়েছেন, এই তথাকথিত অসাংবিধানিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ সব দেখছে এবং সময় এলে তারাই সঠিক জবাব দেবে। ভোটের আগে এই ইস্যু রাজ্য রাজনীতিতে বড় বিতর্কের কারণ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-