তারিক আনোয়ার, নয়া জামানা, বীরভূম: সিউড়ি পৌরসভার উদ্যোগে সিউড়ি সদর হাসপাতাল চত্বরে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে ৫ টাকার ‘মা ক্যান্টিন’। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুপ্রেরণায় রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে সিউড়িতেও আরও উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার পথে হাঁটল পৌরসভা। মঙ্গলবার নারকেল ফাটিয়ে এই নতুন মা ক্যান্টিন ভবনের ভিত পুজো সম্পন্ন করেন সিউড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার প্রকাশ চন্দ্র বাগসহ একাধিক কাউন্সিলর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা।পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে হাসপাতাল চত্বরে মা ক্যান্টিন চালু থাকলেও সেখানে বসে খাওয়ার মতো সুষ্ঠু পরিকাঠামো ছিল না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের দাঁড়িয়ে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেতে হতো, যা তাঁদের জন্য যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ছিল। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এবার হাসপাতালের মধ্যেই প্রায় ৫০০ জন মানুষের একসঙ্গে বসে খাওয়ার উপযুক্ত একটি স্থায়ী ক্যান্টিন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চত্বরে একটি ফাঁকা জায়গা পৌরসভাকে প্রদান করেছে। সেই জমিতেই আধুনিক পরিকাঠামো-সহ নতুন মা ক্যান্টিন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।পৌরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, মা ক্যান্টিন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জায়গায় রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের জন্য সস্তায়, পরিষ্কার ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। এবার বাইরে থেকে আসা মানুষজন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে বসে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন।সাধারণত ভাত, ডাল ও সবজি—এই তিনটি পদই এই খাবারের অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা পুষ্টিগুণের দিক থেকেও যথেষ্ট উপযোগী।হাসপাতাল চত্বরে নতুন এই মা ক্যান্টিন চালু হলে প্রতিদিন শত শত মানুষ উপকৃত হবেন বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে এলাকার মানুষ।
আরও পড়ুন-