ব্রেকিং

সুপ্রিম-মঞ্চে চাল দিদির, চাপ বাড়ল বঙ্গ বিজেপির

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজনীতির ময়দান হোক বা আইনি লড়াই— চমক দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুড়ি মেলা ভার। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন দৃশ্যের। এসআইআর সংক্রান্ত টানাপড়েনে সশরীরে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সওয়াল করতে দাঁড়িয়ে পড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর....

সুপ্রিম-মঞ্চে চাল দিদির, চাপ বাড়ল বঙ্গ বিজেপির

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজনীতির ময়দান হোক বা আইনি লড়াই— চমক দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুড়ি মেলা....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজনীতির ময়দান হোক বা আইনি লড়াই— চমক দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুড়ি মেলা ভার। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন দৃশ্যের। এসআইআর সংক্রান্ত টানাপড়েনে সশরীরে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সওয়াল করতে দাঁড়িয়ে পড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই আচমকা সক্রিয়তা কি প্রতিপক্ষ বিজেপিকে কয়েক গোল দিল? খোদ গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে কান পাতলে কিন্তু তেমনই অস্বস্তির সুর শোনা যাচ্ছে। দিল্লিতে মমতার এই ‘ছোটিসি মুলাকাত’ আপাতত রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড তাঁর ঝুলিতেই পুরে দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তাত্ত্বিক রাজনীতির চেয়ে মাঠ-ময়দানের লড়াই মমতার চিরকালের পছন্দের জায়গা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে তিনি যখন ‘রাজ্যবাসীর অধিকার রক্ষায়’ সওয়াল করতে উঠলেন, তখন আদতে তিনি নিজের লড়াকু ভাবমূর্তিকেই আরও একবার শানিয়ে নিলেন। তৃণমূল শিবির মঙ্গলবার রাত থেকেই এই ‘ঐতিহাসিক’ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। আইনজীবীর কালো গাউন পরিহিতা মমতার ছবি তখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। দলের নেতাদের দাবি, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী নিজে সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করছেন। বুধবার শুনানি শেষে তৃণমূলের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। তাদের দাবি, মমতার এই পদক্ষেপে ‘বিরাট জয়’ হয়েছে রাজ্যের।

যদিও বিজেপি এই গোটা বিষয়টিকে ‘ফ্লপ শো’ হিসেবে দাগিয়ে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে। শুরু থেকেই তারা ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি নিয়েছিল। কিন্তু ময়দান ছেড়ে না দিয়ে তারাও পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। রাজ্য বিজেপির প্রধান অস্ত্র এখন আদালতের কথোপকথনের সেই টুকরো টুকরো অংশ, যেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত থামিয়ে দিচ্ছেন। আদালতে বিচারপতি মমতাকে মনে করিয়ে দেন যে তাঁর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান যথেষ্ট দক্ষ, তাই তাঁকেই সওয়াল করতে দেওয়া হোক। এই অংশটিকেই বিজেপি হাতিয়ার করেছে। দলের আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাজমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ড সম্পর্কে কী বলেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশা করি বুঝতে পেরেছেন। না-পারলে আইনজীবীর কাছ থেকে মানেটা বোঝার চেষ্টা করবেন।’

বিজেপির এই অস্বস্তি কাটানোর অভিযানে বড় ভূমিকা নিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য। সুকান্তের কটাক্ষে ঝরে পড়েছে তীব্র বিদ্রুপ। তিনি বলেন, ‘নাটক করতে তো প্রপ আর কস্টিউম লাগে। তাই দিল্লিতে নাটক করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালো চাদর, কালো পোশাক ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।’ সুকান্তের মতে, পাঁচ মিনিট বলার সুযোগ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্রেফ রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্ট খুব ভদ্র ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে শাট আপ বলেছে।’ মহানায়ক উত্তমকুমারের একমাত্র হিন্দি ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন, ‘‘ উত্তমকুমার হিন্দি ছবি করেছিলেন, ‘ছোটি সি মুলাকাত’। কোনও কারণে ফ্লপ হয়েছিল। মমতা দিল্লিতে এসে যে ‘ছোটি সি মুলাকাত’ করলেন, তাও ফ্লপই হয়েছে। ’’

পিছিয়ে থাকেননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি আবার মমতার ইংরেজি বলা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। শুভেন্দুর মতে, বাংলার মেধা ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের ‘ভুল ইংরেজি’ উচ্চারণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে ভুলভাল ইংরেজি এবং শব্দ উচ্চারণ করছিলেন, পাশ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাকে সংশোধন করছিলেন, তা দেখে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে আমাদের লজ্জা লেগেছে।’ শুভেন্দুর পরামর্শ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনে অনুবাদক রাখতে পারতেন অথবা বাংলায় সওয়াল করার অনুমতি চাইতে পারতেন।

অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য বাংলায় গণতন্ত্রের ‘হাল’ নিয়ে মমতাকে পাল্টা নিশানা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে মমতা যে ‘গণতন্ত্র বাঁচানোর’ আর্জি জানিয়েছেন, তাকে হাস্যকর বলে দাবি করেন তিনি। শমীকের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। খোদ বিরোধী দলনেতাকে সভা করার জন্য আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়। এমনকি কোভিডের সময় সুকান্ত মজুমদারকে ত্রাণ বিলিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাটিও তিনি মনে করিয়ে দেন। বিজেপির মূল যুক্তি হল, যে মুখ্যমন্ত্রী নিজের রাজ্যে গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরছেন, তিনি দিল্লিতে গিয়ে গণতন্ত্রের দোহাই দিচ্ছেন।

কিন্তু এত সব যুক্তি আর ভিডিও যুদ্ধের মাঝেও কি বিজেপি কোথাও একটা ব্যাকফুটে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, মমতার ‘আমি ধন্য’ বলে আদালত থেকে স্মিতহাস্যে বেরিয়ে আসা এবং তৃণমূলের জয়োল্লাস আমজনতার কাছে অন্য বার্তা দিচ্ছে। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, এই আনন্দ বড়জোর আগামী সোমবার পর্যন্ত। কারণ ভোটার তালিকায় গরমিল সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে সাহায্য করতে কতজন আধিকারিক মমতা দেবেন, সেই তালিকা সোমবারই আদালতে জমা দিতে হবে। বিজেপির দাবি, এই মামলা করে মমতা আদতে নিজের পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছেন।

তবে আপাতত লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ডে দিদি যে দিল্লির বুক থেকে একটা শক্তিশালী রাজনৈতিক চিত্রনাট্য লিখে ফিরলেন, তা গেরুয়া শিবিরের নেতারা একান্ত আলাপচারিতায় মানছেন। আইনি লড়াইয়ের ফলাফল যাই হোক না কেন, ‘রাজ্যবাসীর জন্য একাই লড়ছেন’। এই বয়ানটি মানুষের দরবারে পৌঁছে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সফল, তা বুধবারের সুপ্রিম-চিত্রই স্পষ্ট করে দিয়েছে। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর