আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : এসআইআর নিয়ে আদিবাসীদের আন্দোলন চলছিল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। আর তারই মাঝে মতুয়াদের নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল পূর্ব বর্ধমানে। এক দুজন নয় এ জেলায় বেশ কয়েকটি ব্লকে কয়েক হাজার মতুয়াদের নাম কমিশনের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি দলের বিরুদ্ধে তোপ দেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীরা। যদিও কমিশন সূত্র থেকে জানানো হয়েছে শুনানিতে ডাকার পর তাঁদের কাছে কোন রকম নথি পাওয়া যায়নি।
প্রায় আট দিন ধরে শহর বর্ধমানের কোট কম্পাউন্ড এলাকায় অনশনে বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী নেতা দেবু টুডু। তার দাবি বিজেপির ষড়যন্ত্রের ফলে কমিশন আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনদের নাম বাদ দিতে চলেছে। ওই বির্তকের মাঝে মতুয়াদের নাম দেবার অভিযোগ সামনে এলো। জানা গেছে, এর আগে নো ম্যাপিং হয়ে থাকা মতুয়ারা এ জেলায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। তাদের নাম ভোটার তালিকায় আদৌও আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই সংখ্যাটা প্রায় ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। বাদের আশঙ্কায় রয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী উত্তর ও দক্ষিণ, মেমারী, জামালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা। ওই সব এলাকার য় এসসি, এসটি ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এই সংখ্যাটাও ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবার সম্ভবনা আছে। ফলে একদিকে মতুয়া, অন্যদিকে আদিবাসী একই সঙ্গে এসসি- এসটি ভোটারদের চরম আশংকা দেখা দিয়েছে। তবে এর আগে মতুয়াদের জন্য বিজেপি নেতারা তালিকাভুক্ত করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে ছেড়ে দিয়েছেন তারা। এই নিয়ে রাতারাতি বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন চরমে। ঘটনা নিয়ে জেলায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ তথা জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে এরাও এদেশের নাগরিক। সে ক্ষেত্রে আর কোন নথি বা প্রমানের দরকার পড়ে না। এদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবার কোন এক্তিয়ার কারও নেই। আর দেবু টুডু এর আগে অনশনের মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদিবাসীদের নাম বাদ যাচ্ছে কোন যুক্তিতে তার জবাব কমিশনকেই দিতেই হবে। তবে কমিশন সূত্রে জনানো হয়েছে আদিবাসী এবং মতুয়াদের শুনানিতে ডাকা হলেও তারা কোন নথি দেখাতে পারেন নি। আবার বিজেপি নেতৃত্বের পরামর্শ মেনে মতুয়ারা যে সব নথি জমা করেছিলেন পরবর্তীতে সে গুলো কমিশনের কাছে ধোপে টেকেনি। ফলে মতুয়ারা এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।