নয়া জামানা: রূপকথার মতো বিয়ের সানাই বাজছিল ঘরজুড়ে। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই খুশির মেজাজ বদলে গেল আইনি লড়াই আর পারিবারিক তিক্ততায়। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলার জাসরা গ্রামের এই ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিয়ের ঠিক দু’দিন পরেই এক নববধূর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল এই দম্পতির।শ্বশুরবাড়িতে বৌভাতের আমেজ কাটতে না কাটতেই ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নববধূ পেটে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান,তিনি অন্তসত্ত্বা এবং সন্তান প্রসবের সময় হয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন।ঘটনা জানাজানি হতেই শুরু হয় সংঘাত। বরের পরিবারের দাবি, মেয়ের বাড়ির লোকজন এই গর্ভাবস্থার কথা জেনেশুনে গোপন করেছেন। বরের কথায়—আমাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল মাত্র চার মাস আগে। এই সন্তানের দায় আমি নিতে পারব না।
অন্যদিকে, কনের বাবা এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। তার মতে, গত বছরের মে মাস থেকেই বর ও কনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং যাতায়াত ছিল। বরপক্ষ এখন যৌতুকের লোভে বা দায়িত্ব এড়াতে মিথ্যে বলছে।
সামাজিক ও আইনি সংকট
গ্রাম পঞ্চায়েত বসলেও কোনো সমাধান মেলেনি। বরপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কনে ও সন্তানকে গ্রহণ করবে না। এমনকি বিয়ের সময় দেওয়া উপহার ফেরত চেয়ে আইনি ব্যবস্থার হুমকিও দিয়েছে তারা। বর্তমানে ওই নারী তার নবজাতককে নিয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।এই ঘটনা আধুনিক সমাজের নৈতিকতা, নারীর নিরাপত্তা এবং বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এটি কি নেহাতই প্রতারণা নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সামাজিক সত্য ? উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।