সন্দীপ মজুমদার, নয়া জামানা, হাওড়া : গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ প্রতিটি স্ট্রংরুমে বাড়তি নজরদারি চালানো শুরু করেন। সোমবার সকাল আটটা থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে হাওড়া জেলার ১৬টি বিধানসভা আসনের ভোট প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, হাওড়ার সমস্ত স্ট্রংরুমগুলিতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় থাকছে। প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে ২৪ জন করে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। হাওড়ার চারটি গণনা কেন্দ্র হলো— হাওড়া যোগেশচন্দ্র গার্লস স্কুল, আইআইএসটি, হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন এবং ওমদয়াল গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গণনার দিনের জন্য জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়া জেলার দায়িত্বে থাকছেন পুলক রায়, অরূপ রায়, কৈলাস মিশ্র ও গৌতম চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বাধিনায়িকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ক্ষোভ ব্যক্ত করে তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষায় এই ঘটনার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রের লজ্জা বলে অভিহিত করেন। তিনি এই ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ তোলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নির্বাচনী প্রার্থী ডাঃ শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ। হঠাৎ তাঁরা স্ট্রংরুমের ভিতরে কারও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির কর্মীদের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয়। পুরো এলাকা চত্বর নিমেষের মধ্যে রণাঙ্গনের চেহারা নেয়। ব্যাপক তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়ে যায়। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকল তৃণমূল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে সমস্ত জেলা ও শহরাঞ্চলে থাকা দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ইভিএম রাখা স্থানের উপর আরও কড়া ও বাড়তি নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার নির্দেশ জারি করেন। তাঁর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বিভিন্ন এলাকার স্ট্রংরুমের উপর আরও বেশি নজরদারি, সতর্কতা ও রাত পাহারা দেওয়ার কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
সুপ্রিম নির্দেশে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যে ২০০ বিচারক, রবিবার বাংলায় আসছেন জ্ঞানেশরা