নয়া জামানা ডেস্ক : শেষ হল দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ইভিএম-বন্দি জনমত আজই প্রকাশ্যে আসার দিন। আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণের লক্ষে আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোট গণনা। ফলতা বাদে রাজ্যের বাকি সব আসনেই আজ গণনা সম্পন্ন হবে। এই হাইভোল্টেজ প্রক্রিয়াকে ঘিরে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সতর্কতার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্যকে। জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭৭টি গণনাকেন্দ্র এখন দুর্ভেদ্য দুর্গ। মোট ৪৩২ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণনার দিন কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বাহিনী। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি থাকছে ১৬৩ ধারা। তিন স্তরের এই রক্ষাকবচের প্রথম ধাপে থাকবে রাজ্য পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্টরা। দ্বিতীয় স্তরে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় এবং তৃতীয় স্তর অর্থাৎ গণনাকক্ষের ঠিক বাইরে পাহারায় থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা। কমিশন সূত্রে খবর, গণনার দিন রাজ্যে থাকছে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় গড়ে অন্তত দুই কোম্পানি করে বাহিনী নিয়োজিত থাকছে। এছাড়াও ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করবেন। তবে ‘কোনও অবস্থাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা গণনাকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না’ বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাঁরা অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন। জানা গেছে,মোট ৪৫৮টি কাউন্টিং হল প্রস্তুত। সোমবার কয়েক রাউন্ডে এই গণনা হবে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি রাউন্ড গণনা হবে চুঁচুড়ায়। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখানে ২৭ রাউন্ড গণনা হবে, যা সবথেকে বেশি। ফলে চুঁচুড়ার ফল প্রকাশ হতে বেশ কিছুটা দেরি হতে পারে। অন্যদিকে সবথেকে কম রাউন্ড গণনা হবে মেটিয়াব্রুজ, সপ্তগ্রাম এবং বিজপুরে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মেটিয়াব্রুজ, সপ্তগ্রাম এবং বিজপুর—প্রতিটি কেন্দ্রেই ১০ রাউন্ড করে গণনা হবে।
গণনা পর্যবেক্ষক বা কাউন্টিং অবজারভার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে আসন সংখ্যার ওপর। এই তালিকায় সবথেকে ওপরে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। জেলার ৩৩টি বিধানসভা আসনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৯ জন পর্যবেক্ষক। রাজ্যের মধ্যে এটাই সর্বাধিক। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলায় আসনের সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে পাঁচটি আসনে মাত্র ছ’জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন। গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যার নিরিখে উত্তর ২৪ পরগনার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে ৩১টি আসনে ৪৫ জন পর্যবেক্ষক থাকার কথা। যদিও সেখানে একটি (ফলতা) আসনে সোমবার গণনা হবে না। তাই ওই জেলায় বাকি ৩০টি আসনের জন্য মোট কত জন পর্যবেক্ষক সোমবার কাজ করবেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি কমিশন।
নদিয়ায় ১৭টি আসনে গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২৫। হাওড়ায় ১৬টি আসনে ২৫ জন। হুগলিতে ১৮টি আসনে ২৪ জন। বীরভূমে ১১টি আসনে ১২ জন, বাঁকুড়ায় ১২টি আসনে ১৫ জন, কোচবিহারে ন’টি আসনে ১১ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ছ’টি আসনে সাত জনকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। দার্জিলিঙে পাঁচটি আসনে ১০ জন, মুর্শিদাবাদে ২২টি আসনে ৩৩ জন, পুরুলিয়ায় ন’টি আসনে ১৫ জন, পশ্চিম বর্ধমানে ন’টি আসনে ১৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া কলকাতা (উত্তর এবং দক্ষিণ)-র ১১টি আসনে গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ১২। পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি করে আসনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২৬। কমিশন সূত্রে খবর, ওই পর্যবেক্ষকদের কাজ হবে গণনা প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা। তা ছাড়া গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করা হচ্ছে। ১৬৫ জন অতিরিক্ত কাউন্টিং অবজ়ার্ভারকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে সব বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক গণনাকক্ষ রয়েছে, সেখানে ওই ‘অতিরিক্ত’ পর্যবেক্ষকরা কাজ করবেন। তাঁরা আগে থেকে নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করবেন।
গণনাকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের নিয়মাবলীতে এবার আনা হয়েছে বিশেষ কড়াকড়ি। গণনাকর্মী, সরকারি কর্মী, প্রার্থী এবং তাঁদের অনুমোদিত এজেন্ট ছাড়া আর কারোরই প্রবেশাধিকার নেই। সকলকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নিজেদের নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছে যেতে হবে। ভেতরে মোবাইল ফোন, লাইটার বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এজেন্টদের সঙ্গে রাখার অনুমতি মিলবে কেবল একটি সাদা কাগজ ও একটি কলমের। পরিচয়পত্র জালিয়াতি রুখতে এবার এজেন্টদের কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে ডিজিটাল কিউআর কোড। প্রবেশদ্বারে এই কোড স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করার পরই মিলবে ছাড়পত্র। সংবাদমাধ্যমের জন্য পৃথক জোন করা হয়েছে, যেখান থেকে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কর্মীরা প্রতি মুহূর্তের আপডেট প্রদান করবেন। নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে গণনা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট অংশে নিয়ে গিয়ে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
গণনা ও ফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় বদল এনেছে কমিশন। সকালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁর অনুমোদিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্ট্রংরুমের সিল খোলা হবে। সেখানে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং অবজারভার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। স্ট্রংরুম খোলার পর প্রথমে বার করা হবে পোস্টাল ব্যালট। সেগুলির গণনা চলবে আলাদা কক্ষে। পাশাপাশি একে একে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট এনে গণনা টেবিলে রাখা হবে। প্রতিটি গণনা টেবিলের চারপাশে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। ভেতরে থাকবেন গণনাকর্মীরা, বাইরে বসবেন রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টরা। প্রথমে জাতীয় দলের প্রতিনিধিরা, তারপর রাজ্য দলের, তারপর নির্দল এবং সবশেষে অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা বসার সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত ফলাফল প্রথমে যাবে ট্যাবুলেশন টেবিলে। সেখানে এআরও এবং আরও-র নিখুঁত যাচাইয়ের পর তথ্য যাবে কাউন্টিং অবজারভারের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী, ‘কাউন্টিং অবজারভার স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত কোনও ফলাফল বাইরে জানানো যাবে না’। পর্যবেক্ষকের সবুজ সংকেত মেলার পরই সেই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে এবং কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে। ইভিএম-এর গণনা দ্রুত শেষ হলেও পোস্টাল ব্যালট গুনতে সময় বেশি লাগে। তাই সব শেষে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটের মোট ফল যোগ করেই তবেই চূড়ান্ত জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন রিটার্নিং অফিসার।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় লোডশেডিং নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেভাগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডব্লিউবিএসইডিসিএল এবং সিইএসসি-র সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন সিইও। মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘২০ ২০২১ সালে যে লোডশেডিংয়ের ঘটনার অভিযোগ ঘটেছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দফায় দফায় WBSEDCL এবং CESC-এর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে’। কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি থাকায় প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি গণনাকেন্দ্র এবং তার আশেপাশের ২০০ মিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে। যদিও সরাসরি ওয়েবকাস্টিং হবে না, তবে প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করে রাখা হবে যাতে প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কলকাতার ১১টি আসনের ভোট গণনা হবে পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রে। এর মধ্যে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের গণনা চলবে। এখানে চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের ভোট গোনা হবে। এছাড়া ভবানীপুরের গণনা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের গণনা সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুলে, রাসবিহারীর গণনা বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে এবং বালিগঞ্জ কেন্দ্রের গণনা বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে। যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজে ভাঙড়, সোনারপুর উত্তর এবং সোনারপুর দক্ষিণ আসনের গণনা হবে। আলিপুর জাজেস কোর্টের বিহারীলাল কলেজে বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং কসবা বিধানসভা আসনের গণনা হবে। আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সে হবে মহেশতলা, মেটিয়াবুরুজ, বজবজ, যাদবপুর এবং টালিগঞ্জের ভোটগণনা।
জেলাভিত্তিক গণনাকেন্দ্রের তালিকায় আলিপুরদুয়ারে ১, বাঁকুড়ায় ৩, বীরভূমে ৩, কোচবিহারে ৫, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২, দার্জিলিঙে ৩, হুগলিতে ৫, হাওড়ায় ৪, জলপাইগুড়িতে ২, ঝাড়গ্রামে ১, কালিম্পঙে ১, মালদহে ২, মুর্শিদাবাদে ৫, নদিয়ায় ৪, উত্তর ২৪ পরগনায় ৭, পশ্চিম বর্ধমানে ২, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩, পূর্ব বর্ধমানে ৪, পূর্ব মেদিনীপুরে ৪, পুরুলিয়ায় ৩, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৬ এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় ২টি গণনাকেন্দ্র থাকবে। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বিধানসভা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানকার ৩৩টি আসনের ভোট গোনা হবে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ, বসিরহাট হাই স্কুল, বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজ, বিধাননগর কলেজ, বনগাঁর দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়, পানিহাটির গুরুনানক কলেজ এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে।
দীর্ঘ সময় ধরে গণনা চলবে বলে কর্মীদের জন্য ভেতরে পানীয় জল, শৌচাগার এবং খাবারের নির্দিষ্ট ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সব মিলিয়ে, একুশের বিধানসভা ভোটের চরম নাটকীয় ফলাফলের পর এবার কাউন্টিং ডে-তে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। আজ বাংলার ভাগ্য সুতোর ওপর দাঁড়িয়ে। ইভিএম-এর ভেতর লুকোনো রায় নিয়ে কৌতুহল এখন তুঙ্গে। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা—সবই এখন পরীক্ষার মুখে। শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে জয়ের মুকুট, আর কারা বিরোধী আসনে বসবেন, তা নিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন সরগরম। প্রশাসনের নজিরবিহীন প্রস্তুতি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সম্পন্ন হতে চলা এই গণনা পর্ব ইতিহাসের পাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। দিন শেষে জয়ী যেই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই মহাযজ্ঞ যাতে নির্বিঘ্নে শেষ হয়, সেটাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, আজ সারা দেশের নজর বাংলার দিকে। প্রত্যাশা ও আশঙ্কার দোলাচলে শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার। প্রতীকী ফটো।