কুশল রায়, নয়া জামানা, গুয়াহাটি : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গেরুয়া সুনামিতে যখন তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত কোণঠাসা, তখনই উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম থেকে এল স্বস্তির খবর। বাংলা, গোয়া, মেঘালয়ের পর এবার অসমেও বিধানসভার দরজা খুলল ঘাসফুল শিবিরের।
২০২৬-এর অসম বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে ২২-মান্ডিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী শেরমান আলী আহমেদ পেলেন ১,১৩,৪৮০ ভোট। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আব্দুল খালেককে ২৭,৫৬১ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।
এই জয়ের ফলে অসমে প্রথমবার বিধায়ক পেল তৃণমূল। দলের কাছে এটি শুধু একটি আসনের জয় নয়, বরং উত্তর-পূর্বে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। গত কয়েক বছরে গোয়া ও মেঘালয়ে বিধায়ক পেলেও অসমের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এই সাফল্য তৃণমূলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছিল তৃণমূল। ২-মান্ডিয়া কেন্দ্রে দলের সংগঠন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। সেই জোরেই কংগ্রেসের মতো পুরনো দলকে পিছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করলেন শেরমান আলী।
তৃণমূলের উত্তর-পূর্ব পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই জয়কে ‘ব্রেকথ্রু’ বলেই দেখা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী দিনে অসমের বাকি আসনগুলোতে সংগঠন আরও মজবুত করতে ব্লক স্তর পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ শুরু হবে। মেঘালয়ে ইতিমধ্যেই বিধায়ক থাকায়, অসম-মেঘালয় করিডোর ধরে দলীয় প্রভাব বাড়ানোর রণনীতি নিয়েছে তৃণমূল।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দাপটে যখন তৃণমূল নেতৃত্ব হতাশ, তখন অসমের এই ফল দলের কর্মীদের জন্য অক্সিজেনের মতো। বঙ্গে ফলের চাপে যখন দল রক্ষণাত্মক, তখন অসমের জয় দেখিয়ে দিল, ঘাসফুলের রাজনৈতিক দিগন্ত এখনও সীমাবদ্ধ নয়।
শেরমান আলীর জয়ের পরই দলীয় কার্যালয়ে উৎসবের আমেজ। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই জয় দলকে জাতীয় স্তরে আরও শক্তিশালী করবে এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনে উত্তর-পূর্বে তৃণমূলের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াবে।
বঙ্গে ইন্দ্রপতনের ছায়া থাকলেও, অসমের এই একটি আসনই তৃণমূলকে মনে করিয়ে দিল—রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না।