নয়া জামানা ডেস্ক : দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দারুণ ফলাফল করা মানেই দীর্ঘ সময় ধরে সিলেবাসমুখী পড়াশোনা—এই ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সেই ট্রেন্ডে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন আর সারাক্ষণ বইমুখো হয়ে থাকা নয়, বরং নিজের আনন্দ ও আগ্রহকে সঙ্গে নিয়েই পড়াশোনা করে বোর্ড পরীক্ষায় শীর্ষস্থান ধরে রাখছে নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন জি’। ২০২৬ সালের আইসিএসই ও আইএসসি পরীক্ষার ফলাফল সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট প্রমাণ দিল।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে দশম ও দ্বাদশ—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের টেক্কা দিয়েছে ছাত্রীরা। পাশের হার এবং সামগ্রিক ফলাফলের নিরিখে মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে। এবারের আইএসসি পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৯৯.১৩ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৪৮ শতাংশ, আর ছাত্রদের পাশের হার ৯৮.৮১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান আবারও দেখিয়ে দিল, ধারাবাহিক সাফল্যে মেয়েরা কতটা এগিয়ে।
এই উজ্জ্বল ফলাফলের মধ্যেই সবচেয়ে নজর কাড়ল বাংলার মেয়ে অনুষ্কা ঘোষের নাম। বারাকপুরের বাসিন্দা এবং পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী অনুষ্কা ৪০০-র মধ্যে ৪০০ নম্বর পেয়ে আইএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এত বড় সাফল্য অর্জন করেও অবশ্য নিজেকে সংযত রেখেছে এই অষ্টাদশী। তার স্পষ্ট বক্তব্য, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের অন্য কোনও পথ নেই।
ফল প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুষ্কা জানায়, সে স্বভাবতই বেশ উদ্বেগপ্রবণ। রেজাল্ট বেরোনোর আগের দিন রাত থেকেই তার মধ্যে দুশ্চিন্তা কাজ করছিল। তার উপর পরীক্ষার সময় শারীরিক অসুস্থতাও তাকে ভোগায়। জ্বর নিয়েই ইংরেজি পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তাকে, ফলে ফলাফল নিয়ে সংশয় ছিল প্রবল। তবে ফল প্রকাশের পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে সে। আইসিএসই পরীক্ষায় ইংরেজিতে দু’নম্বর কম পাওয়ার আক্ষেপ এ বার পূর্ণ নম্বর পেয়ে মিটেছে বলেও জানায়।
অনুষ্কার এই সাফল্যের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি—এই প্রশ্নের উত্তরে সে নির্দ্বিধায় জানায়, তার স্কুলের শিক্ষক এবং মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহই তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তবে একই সঙ্গে সে বারবার জোর দিয়েছে পরিশ্রমের উপর। তার কথায়, “আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন, মেধাবীদের চেয়ে পরিশ্রমীদের বেশি কদর বিশ্বে। সেই কথাটাই আমি মনে গেঁথে নিয়েছি। যা কিছু করি, তার পিছনে যেন নিবিড় পরিশ্রম থাকে—এটাই আমার লক্ষ্য।”
পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনুষ্কার কোনও বাঁধাধরা সময়সূচি ছিল না। বাড়িতে থাকলে সে পড়াশোনার মধ্যেই থাকত, তবে ক্লান্তি এলে নিজের পছন্দের কাজের দিকে মন দিত। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই তাকে মানসিকভাবে সতেজ রেখেছে বলে মনে করে সে। অবসরে কবিতা লেখা তার খুবই প্রিয়, পাশাপাশি ইদানীং গল্প লেখাতেও আগ্রহ বেড়েছে। নিজের লেখনীশক্তি উন্নত করতেই সে নিয়মিত চর্চা করে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনুষ্কা জানায়, সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায় এবং সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও তার এই একাগ্রতা এবং বিনয় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।অনুষ্কা ঘোষের এই সাফল্য শুধুমাত্র নম্বরের নিরিখে নয়, বরং একটি সুস্থ মানসিকতা, অধ্যবসায় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম হওয়াই শেষ কথা নয়—ভাল মানুষ হয়ে ওঠার লক্ষ্যই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জল না পেয়ে হাহাকার, প্রার্থীর প্রচারে চোখের জলে প্রতিবাদ বৃদ্ধের