সন্দীপ মজুমদার, নয়া জামানা, হাওড়া: কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তায় হাওড়া জেলার নির্বাচন রক্তের উৎসবে পরিণত হলো বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ১৮২ উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের বদান্যতায় উৎসবমুখর ভোট গ্রহণ রক্তের হোলি খেলায় পরিণত হলো বলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮২ উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার ২৪৫ নম্বর বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন এক সিআরপিএফ জওয়ান পূর্ণচন্দ্র দলুই নামের ৮১ বছরের এক দৃষ্টিশক্তিহীন বৃদ্ধ ভোটারের সঙ্গে তাঁর ছেলেকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়। ওই জওয়ান তিনবার ধরে ওই বৃদ্ধকে ভোট কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত করে। বৃদ্ধ বাড়ি চলে গিয়ে আবার ভোট দিতে ফিরে এসে তিনি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে প্রবেশ করার ‘অপরাধে’ ঠিক তখনই সিআরপিএফ জওয়ান এগিয়ে এসে বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। বৃদ্ধ মাটি থেকে উঠতে না পারায় তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনা সম্পর্কে উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর কুমার পাঁজা আমতা হাসপাতালে যান। তিনি এই ঘটনার পিছনে পরোক্ষভাবে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি নানা রকম জনবিরোধী কাজের ফলে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা তার মধ্যে অন্যতম।’ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে হাওড়ার জেলাশাসক ড. পি দীপাপ প্রিয়া, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সুবিমল পাল এবং অন্যান্য আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্মীবৃন্দ এলাকার স্পর্শকাতর স্থান ও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলি ঘন ঘন পরিদর্শন ও কড়া নজরদারি চালানো ও জাতীয় সড়ক সহ অন্যান্য রাস্তায় নাকা চেকিং ও বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়। কিন্তু উদয়নারায়ণপুরের ঘটনায় নির্বাচন আর শান্তিপূর্ণ থাকল না। এদিন বাইকে চেপে গৌরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়। বাগনানের খালোড় গোপীমোহন শিক্ষায়তনের বুথে ভোট দিলেন বাগনান কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরুণাভ সেন।