নয়া জামানা, কলকাতা : দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তির আশঙ্কা?ভোটের সকালেই ভবানীপুরে বুথ পরিদর্শনে বেরোলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চেতলা, চক্রবেড়িয়া-সহ একাধিক এলাকার বুথে বুথে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে বেশ কিছুক্ষণ বসেও থাকেন। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমুল নেত্রী।
মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশির খবর সামনে আসে। বুধবার সকালে সেই বিষয়েই প্রথমে সরব হন মমতা। ভবানীপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, রাত দেড়টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী অসীম বসুর বাড়িতে যায়। সেই সময় তাঁর স্ত্রী শিশুকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন। অসীম দলীয় কাজে বাইরে ছিলেন বলেও জানানো হয়। তবুও বাহিনী বাড়ির ভিতরে ঢুকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।মমতা বলেন, “কাল রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবাইয়ের বাড়িতে যায় বাহিনী। ওর স্ত্রী বাচ্চাটাকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিল। তারপরও ওরা কথা শোনেনি। বাড়ির ভিতর ঢুকে হুমকি দিয়েছে, বাবাই যেন ভোটের দিন কোনও কাজ না করে। মোবাইলও কেড়ে নেয়। এভাবে কি ভোট হয়? এখানে কি গুন্ডারাজ চলছে?” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে, তবু কারও কাছে মাথানত করবে না।”অসীম বসুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে বসেন। সেখানেই নিজের মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, রাতে তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। মমতার কথায়, “দেখুন রাতে আমাদের কর্মীদের কেমন মেরেছে। এটা কেমন গুন্ডামি? এভাবে ভোট হয় না। এটা গণতন্ত্রের উৎসব। বিজেপি গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।”চক্রবেড়িয়ার এই ঘটনাপ্রবাহে ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের বয়াল-২ বুথের স্মৃতি উসকে ওঠে। সেবার আহত পা নিয়েই হুইলচেয়ারে বসে বুথে অবস্থান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি বুথে অবস্থানকালে একই এলাকায় পৌঁছে যান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রায় ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে তিনি ফিরে যান।