নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের মুখে ফের কড়া দাওয়াই নির্বাচন কমিশনের। এবার কোপ পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বীরভূমের অতিরিক্ত জেলাশাসকের ওপর। বুধবার রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার মহারণ। তার ঠিক আগেই ভাস্কর পাল ও শৌভিক ভট্টাচার্যকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের কোনো কাজে আর তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না। ঠিক কী কারণে এই জোড়া অপসারণ, তা নিয়ে কমিশন মুখ না খুললেও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহেই এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংঘাত এখন চরমে। তৃণমূলের অভিযোগ, অজয়পাল প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং মহিলারা হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এমনকি মঙ্গলবার সকালে পুলিশ আধিকারিকের কনভয় ঘিরে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও ওঠে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফলতার যুগ্ম বিডিও-কে বদলি করে পুরুলিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছিল বলে কমিশন সূত্রে খবর। যদিও অজয়পালের ঘটনার সঙ্গে এই বদলির সরাসরি যোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভোট মেটাতে কমিশন যে বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ, তা এই পদক্ষেপেই পরিষ্কার। প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি হলেও দ্বিতীয় দফায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এরই মাঝে দুই জেলার এডিএম-এর ডানা ছাঁটায় জেলা প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শেষ দফার ভোটের আগে এই প্রশাসনিক রদবদল আদতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। ফাইল ফটো।