ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • ট্রাইব্যুনালে নাম তুলতে রাতভর লাইন, চরম ভোগান্তিতে হাজারও ভোটার

ট্রাইব্যুনালে নাম তুলতে রাতভর লাইন, চরম ভোগান্তিতে হাজারও ভোটার

আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : শুনানির পর বিবেচনাধীন। তারপর এবার ট্রাইব্যুনাল। একই ভাবে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের হয়রানি বাড়ছে। আর এবার রাতের রাত জেগে শয়ে শয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন ভোটের তালিকায় নিজেদের নাম তোলার জন্য। শহর বর্ধমানের রাজবাটি এলাকায়....

ট্রাইব্যুনালে নাম তুলতে রাতভর লাইন, চরম ভোগান্তিতে হাজারও ভোটার

আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : শুনানির পর বিবেচনাধীন। তারপর এবার ট্রাইব্যুনাল। একই ভাবে লম্বা লাইনে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : শুনানির পর বিবেচনাধীন। তারপর এবার ট্রাইব্যুনাল। একই ভাবে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের হয়রানি বাড়ছে। আর এবার রাতের রাত জেগে শয়ে শয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন ভোটের তালিকায় নিজেদের নাম তোলার জন্য। শহর বর্ধমানের রাজবাটি এলাকায় গেলেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সকলের নজরে আসবে। এখানেই রয়েছে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিস। শুরুতে সকাল থেকে লাইন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এবার পরদিন সকালে আবেদন জমা দেবার জন্য আগেরদিন সন্ধ্যা থেকেই দপ্তরের সামনে লম্বা লাইন শুরু হয়ে যাচ্ছে। রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে বা রাস্তার উপর বসে কাটাতে হচ্ছে। এদের বেশিরভাগই ৬০ – ৭০ কিলোমিটার দুর থেকে আসা অতি সাধারণ মানুষ। যাদের কাছে এই শহরটা অনেকটাই অচেনা।
এসআইআর পর্বে দুটি ধাপ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে শুনানির সময় পূর্ব বর্ধমান জেলার হাজার হাজার মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। তার পর অধিকাংশ চলে যায় বিবেচনাধীন তালিকায়। বাকিরা বাদের তালিকায়। আর তৃতীয় ধাপে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় সব কিছু বৈধ নথিপত্র যাচাইয়ের পর আবার প্রায় ৯০ শতাংশ বাদের তালিকায়। ফলে আবার আবেদন করতে এবার ট্রাইব্যুনালের লাইনে। জেলায় এই সংখ্যাটা খুব একটা কম নয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় এ জেলায় বিবেচনাধীন ছিলেন ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৩৯ জন। তার পর যোগ্য বিবেচনা হন ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৪০ জন। আর বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০৫ জন। এবার আবার তারা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা করতে শুরু করেছেন। সেই লাইনে ৭০ উর্দ্ধে বৃদ্ধা- বৃদ্ধাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতি দিন এভাবে ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করে আবেদন জমা দিতে গিয়ে আহত, অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাবার পর থেকেই চড়া রোদে ট্রাইব্যুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে সকলকে। জেলা শহরে ছুটে আসতে হচ্ছে আউসগ্রাম, গলসি , মন্তেশ্বর, রায়না, খন্ডঘোষ, মেমারি এমনকি কালনা কাটোয়া থেকেও ভোটাররা আসছেন। মঙ্গলবার থেকে দপ্তরের সামনে সন্ধ্যাবেলায় লাইন শুরু হয়ে যাচ্ছে। রাতভর লাইনে থাকার পর সকালবেলা আবেদন জমা পড়ছে। অচেনা জায়গায় কখনও রাস্তায় বসে কখনো দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কখন সকাল হবে। অনেকে কোন উপায় না থাকায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছেন। বেশিরভাগ লোকজনের ঠিকমতো খাবারও জুটছে না। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে গড়ে প্রতি দিন ২৫ – ৩০ হাজার মানুষের আবেদন জমা পড়ছে। অনেকে আবার লাইনে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে আহত হয়ে পড়ছেন। যদিও এবার বর্ধমানে ট্রাইব্যুনালের লাইন সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা থাকছেন। তবে সকাল থেকে ভিড়ের চাপ কমাতে একাধিক কাউন্টার খোলা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে করানো এফিডেভিট জমা করতে প্রতিদিন আদালত চত্ত্বরে সকাল থেকে লোকজন আসতে শুরু করছেন। এক একদিন রাত দশটা পর্যন্ত চলছে এফিডেভিট এর কাজ। এর জন্য অনেক বেশি টাকা খরচও হচ্ছে। আর এসব নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটাররা ক্ষোভ উগরে দিলেন। বিশেষ করে বৈধ কাগজপত্র জমা দেবার বিবেচনাধীন নাম থেকে একেবারে বাতিলের তালিকায় চলে যাওয়াতে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কমিশনকে। তবে বার বার হয়রানি নিয়ে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর প্রতিনিধিরা অনেকটাই সরব। তারা ভোটারদের এই হয়রানি নিয়ে বিজেপি দলের ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি কমিশনের কঠোর সমালোচনা করছেন।


বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই চিরবিদায়! গণতন্ত্রের উৎসবে এ কেমন শোকের ছায়া?

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর