নয়া জামানা, দক্ষিণ দিনাজপুর: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের অধিকাংশ জায়গায় কাঁচা রাস্তাকে পাকা করা হলেও এখনও চার নম্বর বিনশিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের করবোলা আদিবাসী পাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মাটির রাস্তার উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চরম অসুবিধা এবং সমস্যার মধ্য দিয়ে চার নম্বর বিনশিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই করবোলা গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের ফলে রাজনৈতিক দলের উপর ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির উপরেই ভরসা রাখতে পারছেন না কেউই।এই এলাকার ভোটার মাইকু মারডি, মাইনু হাসদা, বিশু সরেন সহ এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ যে প্রতিবার নির্বাচন এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই গ্রামের যাতায়াতের রাস্তাটি পাকা করার জন্য শুধুই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এলাকার আদিবাসীদের। তারা বলেন যে হিলি ব্লকের সমস্ত কাঁচা রাস্তা গুলি পাকা করা হলেও শুধুমাত্র এই গ্রামের আদিবাসীদের যাতায়াতে রাস্তাটি এখনো কাঁচা আছে। গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ যে, ভোট আসে ভোট যায়, আর শুধু এই গ্রামের বাসিন্দাদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতির উপরেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন যে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নওপাড়া দিঘির কোন হইতে করবল্লা আদিবাসী পাড়া যাতায়াতের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য বহুবার নেতা-মন্ত্রীদের কাছে দাবি জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের পর বিদায় নিতে হয়েছে বামফ্রন্ট সরকারকে। ২০১১ সালে রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। বর্তমানে এই সরকারের সময়কাল প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেল, তবুও এই গ্রামের যাতায়াতের রাস্তাটি নির্মাণ করা হলো না। বিশেষ করে করবোলা আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দাদের জল কাঁদার উপর দিয়েই বর্ষাকালে কৃষি কাজে যাতায়াত করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে সঠিকভাবে কোন ট্রাক্টর বা ভ্যান এবং অন্যান্য যন্ত্র চালিত গাড়ি, গ্রামে আনা যায় না। স্বাভাবিক কারণে গ্রামের কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চরম সমস্যায় পড়তে হয় এই গ্রামের বাসিন্দাদের। উৎপাদিত মাঠের জমির ফসল রাস্তা সঠিকভাবে না থাকার কারণে এবং কাঁচা রাস্তা থাকার ফলে চরম অসুবিধার মধ্য দিয়ে কৃষি কাজ করতে হয় গ্রামের বাসিন্দাদের। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ক্ষমতায় থাকলেও গত দশ বছর ধরে বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে আরএসপি এবং বিজেপি দলের বিধায়ক ছিলেন। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এরপরেও আদিবাসী পাড়ার এই গ্রামের যাতায়াতে রাস্তা পাকা নির্মাণ করা হয়নি। স্বাভাবিক কারণে এখনো এই কাঁচা রাস্তার উপর দিয়ে চরম সমস্যা এবং হয়রানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই গ্রামের আদিবাসী পরিবারের সাঁওতাল বাসিন্দাদের।এইবারও বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই গ্রামে ভোট প্রচারে এসে শুধুই মিলছে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি। আর কতদিন এই গ্রামের বাসিন্দাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নিয়ে থাকতে হবে? যদিও হিলি ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে নওপাড়া দিঘির কোন হইতে আদিবাসী পাড়ার ওপর দিয়ে করিম গুটিন গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য অনুমোদন মিলেছে। নির্বাচনের পরে আদৌ কি এই গ্রামের রাস্তা সংস্কার এবং নির্মাণ করা হবে সেদিকেই নজর রাখছেন এই গ্রামের আদিবাসীরা। তবে এই নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে রাস্তা নির্মাণ করা না হলে গ্রামের সাধারণ ভোটাররা কি ভোট বয়কটের পথে হাঁটবেন ।নাকি নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এই নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি এই গ্রামের বাসিন্দারা।
সরকারি জমিতে তৃণমূল কর্মীর বাড়ি! অভিযোগ দায়ের পঞ্চায়েত প্রশাসনে, ঘটনাস্থলে পুলিশ