ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • আগে ‘কেউটে’ তাড়ান, পরে ঝগড়া, কাঁথিতে অভিষেকের তোপে বিজেপি

আগে ‘কেউটে’ তাড়ান, পরে ঝগড়া, কাঁথিতে অভিষেকের তোপে বিজেপি

নয়া জামানা ডেস্ক : শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কাঁথিতে দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে থাকা ‘গদ্দার’ ও ‘বিভীষণ’দের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় নয়। আগে বিজেপি-র ঢুকিয়ে....

আগে ‘কেউটে’ তাড়ান, পরে ঝগড়া, কাঁথিতে অভিষেকের তোপে বিজেপি

নয়া জামানা ডেস্ক : শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কাঁথিতে দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে থাকা ‘গদ্দার’ ও ‘বিভীষণ’দের বিরুদ্ধে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কাঁথিতে দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে থাকা ‘গদ্দার’ ও ‘বিভীষণ’দের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় নয়। আগে বিজেপি-র ঢুকিয়ে দেওয়া ‘বিষধর সাপ’ তাড়াতে হবে। দলের নেতাদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, কাজ করলে মিলবে পুরস্কার, নয়তো সোজা ছাঁটাই। সূত্রের খবর, সংগঠনের খোলনলচে বদলে ফেলে এবার মেদিনীপুরের মাটি দখলে নিতে মরিয়া ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কাঁথিতে পা রেখেই মেদিনীপুরের রাজনীতির নাড়ি নক্ষত্র বুঝে নিতে চেয়েছিলেন অভিষেক। বৈঠক শুরুর আগে তিনি একান্তে কথা বলেন কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি, দক্ষিণ কাঁথির প্রার্থী তরুণকুমার জানা এবং পটাশপুরের পীযূষকান্তি পণ্ডার সঙ্গে। লোকসভা নির্বাচনে কেন ফল খারাপ হলো, কেন অধিকারী পরিবারের বাড়ির আঙিনায় ঘাসফুল ফোটানো গেল না, তা নিয়ে কাঁটাছেড়া করেন তিনি। রামনগর-সহ জেলার বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর আসনের পরিস্থিতি নিয়ে এই নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজেপি বারান্দায় কেউটে সাপ ছেড়ে দিয়েছে’। এই অলঙ্কার প্রয়োগ করে তিনি আদতে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বা তলে তলে যোগাযোগ রাখা নেতাদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাওয়াই, ‘ঝগড়া করবেন পরে, আগে সাপ তাড়ান’। অভিষেকের মতে, যুদ্ধে যারা বেইমানি করে, তারা আর যাই করুক দলকে নিজের ‘মা’ বলতে পারে না। পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা যে রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তবে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পথও বাতলে দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ, কোন ওয়ার্ড বা বুথে দলের রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তা খুঁজে বার করে বিশ্লেষণ করতে হবে। দলীয় সূত্রের দাবি, অভিষেক স্পষ্ট করেছেন যে ‘পারফরম্যান্স’-ই হবে টিকে থাকার একমাত্র মাপকাঠি। যারা কাজ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে যে কড়া পদক্ষেপ করা হবে, তা-ও জানিয়ে দেন তিনি। এবার শুধু অঞ্চল সভাপতি নয়, প্রয়োজনে প্রধান বা উপ-প্রধানকেও সরিয়ে দিতে পিছপা হবে না দল। নন্দীগ্রামের হার বা কাঁথি দক্ষিণের পরাজয় যে দলের অন্তর্ঘাতের ফল, তা বারবার উঠে এসেছে তাঁর বক্তৃতায়। তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিহারের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে কারচুপি করার চেষ্টা করবে বিজেপি। তাই এজেন্টদের বুথ কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। ভোট শেষ হওয়ার আগে বুথ ছেড়ে বেরোনো চলবে না। ২০২১-এর বিধানসভায় কাঁথি দক্ষিণ হাতছাড়া হয়েছিল। ২০২৪-এ সৌমেন্দু অধিকারীর জয়ের পর এবার সেই গড় পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল। সূত্রের খবর, অভিষেক নির্দেশ দিয়েছেন ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কাজের ভিত্তিতেই মিলবে পুরস্কার, নয়তো জুটবে তিরস্কার। অধিকারীদের গড়ে দাঁড়িয়েই দলের পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে নতুন করে যুদ্ধের নীলকশা এঁকে দিলেন অভিষেক। এখন দেখার, তাঁর এই ‘কেউটে’ তাড়ানোর দাওয়াই মেদিনীপুরের বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে কতটা কাজ দেয়। আগামী কয়েক দিন কর্মীদের কড়া নজরে রাখা হবে বলেও তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর