নয়া জামানা ডেস্ক : মৃত ব্যক্তিদের আধার কার্ড ব্যবহার করে জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ করতে চাইছে আধার কর্তৃপক্ষ (ইউআইডিএআই)। জমানো তথ্য ঝালিয়ে নিতে তারা হাত বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের দিকে। লক্ষ্য একটাই, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মৃতদের আধার নম্বর দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা। কিন্তু তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় অনড় কমিশন এখনই সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। ফলে মৃতদের আধার অকেজো করার প্রক্রিয়া নিয়ে এক জটিল প্রশাসনিক দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আধার কর্তৃপক্ষ কমিশনকে চিঠি লিখে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্য চেয়েছিল। তাদের দাবি, আধারের তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। নচেৎ মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের অর্থ লোপাট বা অবৈধ কাজ হতে পারে। তবে কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এসআইআর-তথ্য একমাত্র কমিশনের অধিকারভুক্ত এবং এটি সরকারি সংস্থা-সহ কোনও বাইরের সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা যায় না।’ কমিশন যে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা, সেই যুক্তি তুলে ধরেই তথ্য শেয়ার করতে নারাজ তারা। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ২২ লক্ষ মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এই কাজ চলে। এ রাজ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। গত নভেম্বরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আধার কর্তাদের বৈঠকে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩৪ লক্ষ আধার কার্ডধারীকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরেও প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ এখনও আধারের আওতায় আসেননি। আধার কর্তৃপক্ষের ধারণা, রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার তথ্যের চেয়ে কমিশনের কাছে থাকা মৃতদের তালিকা অনেক বেশি নিখুঁত। এক আধিকারিকের কথায়, ‘২০২৭ সালের আদমশুমারি পর সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ তবে নিষ্ক্রিয় হলেও ডাটাবেস থেকে নম্বর মুছবে না। এ প্রসঙ্গে এক কর্তা জানান, ‘আধারের নম্বরটি ইউনিক নম্বর হিসাবেই ধরা হয়। ফলে নম্বরটি তথ্যভান্ডারে রেখে দেওয়ার কারণ, যাতে ওই নম্বরটি অন্য কাউকে আর দেওয়া না যায়। নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরে এমন মৃত ব্যক্তিদের কার্ড অসাধু পথে ব্যবহারের চেষ্টা হলেও, স্বংয়ক্রিয় ব্যবস্থায় তা আটকে যাবে।’ ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার এবং গণবন্টন ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করে প্রায় দু’কোটি আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করেছে ইউআইডিএআই। এখন কমিশন সহযোগিতা করলে জালিয়াতির কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন আর তথ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপাতত লাল ফিতের ফাঁস কাটছে না। আধার কর্তৃপক্ষের এই আর্জি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। ফাইল ফটো।