নয়া জামানা, কলকাতা : ভোটের উত্তাপের মাঝেই এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নজরে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। জমি দখল সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ডাক পেয়ে এদিন সকালেই হাজিরা দেন বিদায়ী বিধায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। নির্বাচন চলাকালীন এভাবে সক্রিয় বিধায়ককে তলব করায় প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় একটি সংস্থার বিরুদ্ধে জমি দখলের ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই সংক্রান্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল বিভিন্ন থানায়। অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চালানো হয়েছে। সম্প্রতি এই মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। ওই সংস্থার দপ্তরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই দেবাশিস কুমারের নাম উঠে আসে বলে দাবি ইডির।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি বিজেপিকে বিঁধে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ জয় পেতে মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পিছনে ইডি-সিবিআইকে লাগানো হচ্ছে। আর তা সবটাই হচ্ছে অমিত শাহের নির্দেশে। মানুষ এর জবাব দেবে।’ যদিও শাসক দলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির পাল্টা দাবি, আদালত ও সংবিধান মেনে তদন্ত চলছে। তদন্ত নিয়ে আপত্তির কিছু থাকলে আদালতে জানানোই শ্রেয়।
ভোটের বাংলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই তৎপরতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেবাশিস কুমারকে কতক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে তখন ছিল কড়া নিরাপত্তা। হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থীর কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
বাসন্তীতে বিজেপির মিছিলে হামলা, রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের