নয়া জামানা, কলকাতা : ভোটে লড়ছেন, অথচ ভোটার তালিকায় নাম নেই। নজিরবিহীন এই বিড়ম্বনায় পড়ে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছেন ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখ। এসআইআর-এর তালিকায় নাম না থাকায় তাঁর প্রার্থিপদ নিয়েই দানা বেঁধেছে চরম অনিশ্চয়তা। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই জট কাটাতে হলে শীর্ষ আদালতেরই দ্বারস্থ হতে হবে তাঁকে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ, ‘এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি গ্রহণ করছে সুপ্রিম কোর্ট।’ হাইকোর্টের এই বার্তার পর আগামী ১ এপ্রিল দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন মহতাব। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কেন্দ্রের প্রার্থী মহতাব শেখের নাম ঘোষণা হয়ে গেলেও এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ওঠেনি। প্রার্থী এবং ভোটার তালিকার এই সংঘাত নিয়ে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তাঁর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর সওয়াল ছিল, প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তালিকায় নাম না থাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ট্রাইবুনাল এখনও কার্যকর না হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ রয়েছে যে, কোনও হাইকোর্ট এই মামলার শুনানি করতে পারবে না। কলকাতা হাইকোর্ট কেবল প্রশাসনিক তদারকির কাজটুকু দেখছে। এই বিতর্ক কেবল কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। কাজল শেখ, শশী পাঁজা-সহ তৃণমূলের ১১ প্রার্থীর নামও এসআইআর-এর আতশকাঁচের তলায় ছিল। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কাজল ও শশীর নাম প্রকাশিত হলেও এখনও ঝুলে রয়েছে বাকি ৯ জনের ভাগ্য। গোটা প্রক্রিয়ায় বিজেপি-র কারসাজি দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ‘বিজেপি-র ইশারায় নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বা জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করছে।’ তৃণমূল সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার ভোটারদের ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে তারা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেবে। কমিশন অবশ্য এখনও নীরব। একদিকে ভোটার তালিকায় নাম থাকার আইনি লড়াই, অন্যদিকে ভোটের ময়দানে টিকে থাকার লড়াই— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ ফরাক্কার মহতাব শেখ। এখন ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।