জয়ন্ত দত্ত, নয়া জামানা, পুরুলিয়া: দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একবার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -কে দেখা। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই প্রখর রোদ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ ট্রাইসাইকেল চালিয়ে জনসভায় পৌঁছালেন পুরুলিয়ার মানবাজারের ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার ডুমুরিয়া বুথের বাসিন্দা সুশীল কুমার মাঝি। তাঁর এই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা সভাস্থলে উপস্থিত অনেকেরই নজর কেড়েছে।
সূত্রের খবর, মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে আয়োজিত হয় মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা। সেই সভায় যোগ দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই প্রস্তুতি নেন সুশীল। নিজের ট্রাইসাইকেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা বেঁধে ধীরে ধীরে সভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অবশেষে তিনি পৌঁছে যান জনসভা প্রাঙ্গণে। সেখানে ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে মন দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য।
সুশীল কুমার মাঝি জানান, কলেজ জীবনে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর বহুদিনের ইচ্ছা ছিল একবার সামনে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা। অবশেষে সেই সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
সুশীল বলেন, “জনসমুদ্রের ভিড়ে হয়তো আমাকে দিদির চোখে পড়েনি, কিন্তু এত কাছ থেকে তাঁকে দেখতে পেরে আমি খুব খুশি। জীবনের একটা বড় স্বপ্ন আজ পূরণ হল।”
তবে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথাও এদিন তুলে ধরেন তিনি। সুশীল জানান, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসার চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন এবং একটি নতুন ট্রাইসাইকেল দেওয়ার অনুরোধও করেছেন।
এ প্রসঙ্গে মানবাজার ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নবকিশোর প্রামানিক বলেন, দলের প্রকৃত শক্তি হল সাধারণ কর্মীরা। সুশীলের মতো নিষ্ঠাবান কর্মীদের এই প্রচেষ্টা অন্য কর্মীদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বাংলায় বসে দেশজুড়ে নাশকতার ছক, গ্রেপ্তার বাংলাদেশী সহ ৮ পাক জঙ্গি