হাসানুজ্জামান, নয়া জামানা,উত্তর ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনার নদীবেষ্টিত দ্বীপাঞ্চল সন্দেশখালিতে বড় জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী । রবিবার সন্দেশখালির সরবেড়িয়া হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নদীপথ ও সড়কপথে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সভাস্থলে পৌঁছন।
সন্দেশখালি রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিধানসভা কেন্দ্র। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় নারী নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ইস্যুতে এই এলাকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা হয়েছিল। সেই ঘটনার এক বছর পর আবার নির্বাচনের আগে সন্দেশখালির মাটিতে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা।
সভাস্থল ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, ড্রোন ক্যামেরা এবং সিসিটিভির মাধ্যমে গোটা এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। নির্ধারিত সময়ে হেলিকপ্টারে করে সভাস্থলে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে স্বাগত জানাতে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেশখালির উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০টি পরিবারের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনে মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের কাজ আরও জোরদার করা হবে।
এদিন সভা থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। অভিষেক বলেন, “সন্দেশখালির মানুষ যদি আমাদের প্রার্থীকে ৫০ হাজার ভোটে জয়ী করেন, তাহলে বেতনী নদীর উপর একটি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে।” দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের এই দাবি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বাম আমলে সেই দাবি পূরণ হয়নি, কিন্তু ২০২৬ সালে আবার তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনাও করেন তিনি। পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালীর এই জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।