নয়া জামানা ডেস্ক : বিজেপির দেওয়া টাকা পকেটে পুরুন, কিন্তু ভোটটা দিন জোড়াফুলেই— ঝাড়গ্রামের বিনপুরে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই হুঙ্কার দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিনপুরের সভা থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন দিয়ে শুনুন, তারা বুথে বসার জন্য টাকা দিচ্ছে। টাকা নিন, ওটা আপনাদেরই টাকা আর তার পর তৃণমূলকে ভোট দিন। আমি জানি আমার মানুষজন বিশ্বাসঘাতক নয়। আমাদের ঠকানোর জন্য তাদের উচিত শিক্ষা দিন। বিরবাহা হাঁসদাকে ভোট দিন।’ রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে অভিষেক মনে করিয়ে দেন আদিবাসী ভাবাবেগে আঘাতের প্রসঙ্গ। শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তিনি জানান, ‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন যে, দেবনাথ হাঁসদা এবং বিরবাহা হাঁসদার মতো নেতারা আমার জুতোর নীচে থাকেন, আর তার পর তারা নীতিকথা বলতে আসে।’ দিল্লির বুকে বিরবাহাকে হেনস্থা করার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, এক দিকে আদিবাসী প্রেম দেখানো আর অন্য দিকে তাঁদের মাটির মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া কি বিজেপির সংস্কৃতি নয়? এমনকি রাম মন্দিরের উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। বিনপুর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতি এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ভোট মিটলেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়বে। তাঁর কথায়, ‘আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, ভোট শেষ হওয়ার দিনই এলপিজি ২,০০০ টাকা এবং পেট্রল-ডিজ়েল ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।’ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর হলে ব্যক্তিগত জীবন যে বিপন্ন হবে, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে যুবসাথীর মতো রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সব সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এ দিন বিনপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুকে ‘ফেল করা ছাত্র’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘এক দিকে আপনাদের কাছে ঘরের মেয়ে বিরবাহা রয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপির কর্মীরাই তাঁদের প্রার্থীর নির্দেশ মানছেন না। তিনি হাওড়ার লোক। গত লোকসভা নির্বাচনে কালীপদ সরেনের কাছে তিনি দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। আর এখন তিনি আবার লড়ছেন। কোনও ছাত্র যদি বার বার ফেল করে, তবে স্কুলও তাকে বার বার সুযোগ দেয় না।’ এর পরে পাঁশকুড়ায় গিয়ে তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। চাকরি বাতিল এবং আইনি জট নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁরা এখন অবৈধ, অথচ তিনি বৈধ? যে মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তারা যদি অবৈধ হয়ে যান, তবে প্রধানমন্ত্রী বৈধ হন কী ভাবে? মানুষকে যদি লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের নাম বিচারাধীন রাখা হয়, তবে প্রধানমন্ত্রীর নাম কেন বিচারাধীন থাকবে না?’ পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী অসীমকুমার মাজিকে জেতানোর ডাক দিয়ে অভিষেক বুঝিয়ে দেন, জঙ্গলমহল থেকে মেদিনীপুর— এ বার লড়াই হবে সমানে সমানে। ছবি সংগৃহিত।