নয়া জামানা, কলকাতা : ক্ষমতায় এলে পুলিশকে দিয়ে ‘উত্তরপ্রদেশের স্টাইলে এনকাউন্টার’ করানো হবে। বৃহস্পতিবার খড়্গপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ স্পষ্ট জানান, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে বর্তমান পুলিশই ভোল বদলে ফেলবে। অপরাধীদের দমন করতে যোগীরাজ্যের কায়দায় কড়া পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। মে মাসের ৪ তারিখের পর থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। দিলীপের নিশানায় এ দিন ছিল মূলত স্থানীয় মাফিয়া ও শাসকদল ঘনিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পুলিশ চোর নেতাদের চামচাগিরি করছে এবং মাফিয়াদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই পুলিশই অভিযুক্তদের খুঁজে খুঁজে জেলে ঢোকাবে বলে দাবি করেন তিনি। খড়্গপুরের গুন্ডারাজ খতম করতে তিনি বরাবরই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন বলে জানান মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘যে পুলিশ আজ মাফিয়া আর গুন্ডাদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, চোর নেতাদের চামচাগিরি করছে, সেই পুলিশই দেখবেন উত্তরপ্রদেশের স্টাইলে এনকাউন্টার করবে। সকলকে জেলে ঢোকানো হবে।’ নিজের আগ্রাসী রাজনীতির ধরনে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন দিলীপ। বরং বুক ঠুকে তিনি জানান, ভয় দেখিয়ে ভোট লুট রোখার জন্য তিনি ‘চমকানো’র রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘দম থাকলে সামনে এসো।’ নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষতার আর্জি জানিয়ে দিলীপ অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউট সরাতে পুলিশ ভয় পাচ্ছে। এলাকায় সমানাধিকার ফেরাতে কমিশনকে কড়া হওয়ার বার্তা দেন তিনি। পুরনো কেন্দ্র খড়্গপুরে ফিরে এ দিন মেজাজেই ধরা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘চমকে চমকেই আমি রাজনীতি করেছি। খড়্গপুরের মানুষ সেই কারণেই আমাকে ভোট দেয়। আবার দেবে।’ এদিন আবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষ সরাসরি টার্গেট করলেন বিজেপি নেতার পরিবারকে। সায়নী বলেন, ‘দিলীপ বাবুকে বলব বউকে একটু সাবধানে রাখুন। যে ধরনের কথা বলছেন, তাতে এনকাউন্টার না হয়ে যায়।’ আবার ব্রাত্য বসুবলেন, ‘আশা করব ওঁরা অনেকদিন বেঁচে থাকবেন।’ সায়নীর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা এই মন্তব্য নিয়ে সরব হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন মেদিনীপুরের পদ্ম-প্রার্থী। ফাইল ফটো।