নয়া জামানা , কলকাতা : কোনো কিছুতেই কাজ না হওয়ায় এবার ইভিএম হ্যাক করে বাংলায় জিততে চাইছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর দাবি, এজেন্সি লেলিয়ে বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে রুখতে না পেরে এখন প্রযুক্তির কারচুপির আশ্রয় নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সায়নী এদিন সাফ জানান, যখন কোনও কিছুতেই কাজ হল না, ভয় দেখিয়ে বা এজেন্সি লেলিয়ে দিয়ে যখন আমাদের আটকানো গেল না, তখন এখন ইভিএম হ্যাক করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। রাতারাতি রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে যে রদবদল করা হয়েছে, তাকে ‘গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। সায়নীর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। রাজ্যের প্রায় 73 জন রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ আধিকারিককে রাতারাতি বদলি করে দেওয়া হয়েছে।’ তৃণমূলের এই সাংবাদিক বৈঠকে সায়নীর পাশে ছিলেন দমদমের প্রার্থী ব্রাত্য বসুও। তিনি পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ব্রাত্যর অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের পছন্দের ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের এ রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠাচ্ছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘মালদায় এমন একজন আধিকারিককে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিজেপির পারিবারিক এবং রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রের আট হাজার কোটি টাকার অ্যাম্বুলেন্স টেন্ডার দুর্নীতিতে যুক্ত মহারাষ্ট্র ক্যাডারের আধিকারিক ধীরাজ কুমারকে গাজোলে পর্যবেক্ষক করে আনা হয়েছে।’ এখানেই থামেননি ব্রাত্য। তিনি আরও এক আধিকারিকের নাম করে বলেন, ‘পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত অজয় কাটিসারিয়াকে বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই অজয় কাটিসারিয়াকে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে পরে বিজেপি সরকারই ক্লিনচিট দিয়েছিল।’ ঘাসফুল শিবিরের দাবি, নির্বাচনের নামে আসলে একটি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির জাল বুনছে বিজেপি। তবে বাংলার মানুষ এই বিভাজন ও কারচুপির রাজনীতি রুখে দেবে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ইভিএম বিতর্ক নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এর আগেও উত্তাল হয়েছে, এবার সায়নী-ব্রাত্যর অভিযোগে বাংলার ভোট ময়দানে পারদ আরও চড়ল।
লক্ষ্য ১৭৭ পার, ‘ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ’, তত্ত্বে ভোটে জিততে চান শুভেন্দুরা