নয়া জামানা ডেস্ক : ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এক মাস গড়াতে চললেও এখনও কাটেনি এলপিজি ও জ্বালানি তেলের আকাল। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের মজুত ভাণ্ডারের হালহকিকত খতিয়ে দেখতে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তলব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে। সূত্রের খবর, ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা বদল আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধি জারি রয়েছে। তাই এই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের পরিবর্তে মুখ্যসচিবদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠক বয়কট করতে পারেন বলে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল শিবিরের দাবি, রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়, বরং সংসদেই এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য বিবৃতি প্রয়োজন। যদিও চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সংসদের উভয় কক্ষে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সেদিন মোদী আশ্বাসের সুরে জানিয়েছিলেন যে, দেশে এখনও জ্বালানির অভাব প্রকট হয়নি। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্র ইথানল উৎপাদনে বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘আগামী দিনগুলিতেও ধারাবাহিক ভাবে এই প্রচেষ্টা চলবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।’ যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানিতে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে কেন্দ্র।
বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। আমজনতার অভিযোগ, রান্নার গ্যাসের জোগান এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বুকিং করার অন্তত ২৫ দিন পর মিলছে সিলিন্ডার। এই সংকট মোকাবিলায় রাজ্যগুলি কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়েই শুক্রবার বিস্তারিত আলোচনা করবেন মোদী। কোভিডের সময়ের মতো এবারও সমস্ত রাজ্যকে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে একযোগে কাজ করার বার্তা দিতে পারেন তিনি। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশের তৈলভাণ্ডার কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়াই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। ভোটের আবহে বাংলার নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়াল এই বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ কাটেনি। তবে কেন্দ্রের লক্ষ্য স্পষ্ট— যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও যাতে দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি-র হাহাকার না পড়ে, তার আগাম ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখা। শুক্রবারের এই বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতে পারে আগামী দিনে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার গতিপথ। ফাইল ফটো।
গ্যাসের দামে পকেটে ছ্যাকা: কাঠ-কয়লায় ফিরছে হেঁসেল-রেস্তোরাঁ, বিপাকে আমজনতা