নয়া জামানা ডেস্ক : বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতো সম্পূর্ণ বিনা শর্তে মহিলাদের হাতে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা তুলে দিতে পারলে তিনি আর তৃণমূলের হয়ে ভোটই চাইবেন না। উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতে দাঁড়িয়ে এভাবেই গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধেও চড়া সুরে সরব হন তিনি। অভিষেকের সাফ কথা, ‘অসম-সহ ১৫টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও রাজ্যে এখানকার মতো সম্পূর্ণ শর্ত ছাড়া ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ দিতে পারবে? আমি চ্যালেঞ্জ করছি। একটা রাজ্যেও সেটা করতে পারলে তৃণমূলের হয়ে আর ভোট চাইব না।’ বিজেপির দ্বিচারিতা নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ধূপগুড়িতে তৃণমূল না জিতলেও মা-বোনেদের প্রকল্পের টাকা কখনও বন্ধ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, গেরুয়া শিবিরের নেতারা কোথাও এই প্রকল্প বন্ধের ভয় দেখাচ্ছেন, আবার কোথাও ক্ষমতায় এলে টাকা বাড়ানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অভিষেক মনে করেন, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তারা আসলে রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া। প্রকৃত রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণ নিয়ে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী অভিষেক দাবি করেন, জোড়াফুল শিবির যা কথা দেয় তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। ধূপগুড়িকে মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে হাসপাতালের উন্নয়ন এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো— সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার সফল বলে দাবি করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ের হয়ে সওয়াল করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের ভূমিকা নিয়ে। ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস প্রকল্প ও জলজীবন মিশনের টাকা আটকে রাখা নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা করেন তিনি। চ্যালেঞ্জের সুরে অভিষেক বলেন, বঞ্চনা নিয়ে সাংসদ জয়ন্ত কেন্দ্রকে একটিও চিঠি লিখে থাকলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের হকের টাকা আটকে বিজেপি নিজের দলীয় কার্যালয় বানানোর কাজে খরচ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১৫ লক্ষ টাকা এবং বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক কটাক্ষ করেন, নোটবন্দি থেকে শুরু করে গ্যাসের লাইনে মানুষকে দাঁড় করানোই বিজেপির আসল কাজ। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করেন তিনি। অভিষেকের আশঙ্কা, বিজেপি জিতলে মানুষ কী খাবে বা কী পরবে তাও তারাই ঠিক করে দেবে। বিহারে মাছ বিক্রি বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। ধূপগুড়িতে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে জেতানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, বঞ্চনার যোগ্য জবাব দিতেই হবে।
বিকেলে আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতে মেজাজ ছিল আরও উৎসবমুখর। গোপীমোহন গ্রাউন্ড থেকে ভুটান গেট পর্যন্ত মেগা রোড শো-তে জনজোয়ার নামে। গতবার এই কেন্দ্রে হারলেও এবার জয় নিয়ে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী বীরেন্দ্র বরা ওঁরাওকে পাশে নিয়ে অভিষেক প্রতিশ্রুতি দেন, ‘যাঁরা ৬০ বছর পার করবেন, তাঁদের ওল্ড এজ পেনশন দেবে আমাদের সরকার। আমি কথা দিয়ে কথা রাখি, যা পারব না, তা বলি না।’ কালচিনিতে পুরসভা ও হাসপাতালের যে পুরনো দাবি রয়েছে, তৃণমূল জিতলে তাও পূরণের কথা দেন তিনি।বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের টিপ্পনী, ‘যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরাও বুঝেছেন তাতে লাভ হয়নি।’ সমর্থকদের চাঙ্গা করতে তাঁর শেষ দাওয়াই, ‘কষ্ট হলেও, ঝড়-বৃষ্টি হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিন, যাতে ৪ তারিখে পদ্ম ফুলের জায়গায় এরা সর্ষের ফুল দেখে। আমি কিন্তু বারবার কালচিনিতে আসতে চাই, আগামীতেও যাতে আসতে পারি, সেই ব্যবস্থা করবেন আপনারা।’ আগামী দিনেও বারবার কালচিনি আসার অঙ্গীকার করে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, উত্তরবঙ্গ এবার তৃণমূলের পাখির চোখ। উন্নয়নের খতিয়ান আর নতুন প্রতিশ্রুতির মিশেলে উত্তরের জনতাকে কাছে টানতে মরিয়া চেষ্টা চালালেন অভিষেক।