ব্রেকিং
  • Home /
  • প্রথম পাতা /
  • শপথ-মঞ্চে সৌজন্যের ‘নজির’, বিমানকে অনন্য সম্মান মমতার

শপথ-মঞ্চে সৌজন্যের ‘নজির’, বিমানকে অনন্য সম্মান মমতার

নয়া জামানা, কলকাতা : রাজনীতির চেনা কাদা ছোড়াছুড়ি আর যুযুধান শিবিরের তিক্ততাকে এক লহমায় ফিকে করে দিল রাজভবনের এক চিলতে অকৃত্রিম সৌজন্য। বৃহস্পতিবার নতুন রাজ্যপাল আরএন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সাক্ষী থাকল এক বিরল মুহূর্তের। সমস্ত প্রোটোকল সরিয়ে রেখে বামফ্রন্ট....

শপথ-মঞ্চে সৌজন্যের ‘নজির’, বিমানকে অনন্য সম্মান মমতার

নয়া জামানা, কলকাতা : রাজনীতির চেনা কাদা ছোড়াছুড়ি আর যুযুধান শিবিরের তিক্ততাকে এক লহমায় ফিকে করে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, কলকাতা : রাজনীতির চেনা কাদা ছোড়াছুড়ি আর যুযুধান শিবিরের তিক্ততাকে এক লহমায় ফিকে করে দিল রাজভবনের এক চিলতে অকৃত্রিম সৌজন্য। বৃহস্পতিবার নতুন রাজ্যপাল আরএন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সাক্ষী থাকল এক বিরল মুহূর্তের। সমস্ত প্রোটোকল সরিয়ে রেখে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে সসম্মানে প্রথম সারিতে নিজের পাশে বসালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান আবহে সৌজন্যের এই নজিরবিহীন ছবি দেখে রীতিমতো আপ্লুত ৮৩ বছরের প্রবীণ বাম নেতা। এদিন লোকভবনে রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের বসার জন্য নির্দিষ্ট আসন বিন্যাস ছিল। প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রী, স্পিকার ও মেয়রের আসন নির্ধারিত থাকলেও বিমান বসুর আসন ছিল তৃতীয় সারিতে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে প্রবীণ জননেতাকে পিছনের সারিতে বসে থাকতে দেখে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি মুখ্যমন্ত্রী। সোজা এগিয়ে গিয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘আরে বিমানদা, আপনি এসেছেন! পিছনে কেন বসে? সামনে আসুন।’ কার্যত জোরাজুরি করেই বিমানবাবুকে তৃতীয় সারি থেকে তুলে এনে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বরাদ্দ আসনে বসান মমতা। সৌজন্যের এখানেই ইতি নয়। মেয়রের আসনটি খালি দেখে মুখ্যমন্ত্রী ফের প্রস্তাব দেন, ‘মেয়র তো আসবেন না। এই আসনটি ফাঁকা। বিমানদা, আপনি আমার পাশে এসে বসুন।’ প্রথমে অস্বস্তিতে পড়ে বিমান বসু আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘না না আমি এখানেই ঠিক আছি।’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাছোড়বান্দা অনুরোধের কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই বসেন তিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই ছাপিয়ে এই ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষেও দেখা গেল সেই একই হৃদ্যতা। লোকভবনের দক্ষিণ পোর্টিকোর কাছে রোদের মধ্যে বিমান বসুকে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখে ফের এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আরে আপনি রোদের মধ্যে এখানে দাঁড়িয়ে কেন? আপনার গাড়ি কোথায়?’ নিজের গাড়ি চলে এলেও তাতে ওঠেননি মমতা। বরং সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগে বিমানদার গাড়ি আসুক, ওঁকে গাড়িতে তুলে দিয়ে তারপর আমি গাড়িতে উঠব।’ প্রবীণ নেতার গাড়ি এলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁকে বিদায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই অভাবনীয় ব্যবহারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রবীণ বাম নেতা। মৃদু ও কম্পিত কণ্ঠে তিনি কেবল বলতে পেরেছেন, ‘ধন্যবাদ।’ শাসক-বিরোধী সংঘাতের উগ্র বাতাবরণে এই টুকরো ছবিগুলিই যেন মনে করিয়ে দিল যে, বাংলার রাজনীতির সাবেকি সৌজন্য ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি আজও অমলিন।


 

গভীর রাতে বেআইনি কাজের অভিযোগ অরিজিৎ ও আমির খানের বিরুদ্ধে, ভাইরাল ভিডিও

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর