নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটাভুটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব। লোকসভার স্পিকার পদে সসম্মানে বহাল রইলেন ওম বিড়লা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া টানা দুদিনের হাইভোল্টেজ বিতর্কের পর বুধবার ধ্বনিভোটে জয়ী হল শাসক পক্ষ। স্পিকারের বদলে সভার দায়িত্বে থাকা বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল প্রস্তাবটি খারিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর পরেই দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।
অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর জবাবি ভাষণে বিরোধীদের একহাত নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই পদক্ষেপকে সংসদীয় ইতিহাসের জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘অনুশোচনীয়’ আখ্যা দিয়ে শাহ বলেন, ‘হাউস চলবে নিয়মে, কোনো দলের নিয়মে নয়।’ প্রায় চার দশক পর স্পিকারের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেন তিনি। বিরোধীদের নিরপেক্ষতার অভিযোগ খারিজ করে তাঁর দাবি, স্পিকার গণতন্ত্রের মর্যাদার প্রতীক। শাহর নিশানায় ছিলেন রাহুল গান্ধীও। তাঁর পুরনো আচরণের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আপনাদের সুপ্রিম লিডার নিজেই সংসদে এসে চোখ মারেন, প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন, এটা কী ধরনের আচরণ। এটা তো প্ররোচনামূলক।’
পাল্টা আক্রমণে সরব হন রাহুল গান্ধী থেকে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। রাহুল সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।’ তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের হুঙ্কার, ‘পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না সংসদকে।’ সায়নী অভিযোগ করেন, বিরোধী সদস্যদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা অখিলেশ যাদবকে নিয়ম পালনের দোহাই দিয়ে কথা বলতে বাধা দেওয়া হলেও শাসক দলের ‘প্রিয় ছেলেদের’ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এনসিপি সাংসদ বজরং সোনওয়ানে একটি রূপক টেনে কটাক্ষ করেন, ‘টেবিল ফ্যান যেমন একপাশে বাতাস দেয়, বিড়লা জি যখন ডানে তাকান তখন তার মুখে হাসি থাকে, আর যখন অন্য দিকে তাকান তখন শুধু না, না, না শোনা যায়।’ হট্টগোলের মধ্যেই প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় বৃহস্পতিবার ফের নিজের আসনেই বসবেন ওম বিড়লা।
সাংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের হাতিয়ায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, আক্রান্ত হল সাংবাদিক