নয়া জামানা ডেস্ক : ইজরায়েল ও হেজবোল্লার রক্তক্ষয়ী লড়াই এবার চরম আকার নিল। রবিবার দুপুরে ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা নৌসেনা ঘাঁটিতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লা। এই হানায় নৌঘাঁটিটি কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তে যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ইজরায়েলি জওয়ান। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইজরায়েল সেনার পক্ষ থেকে নিজেদের যোদ্ধাদের মৃত্যুর খবর স্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইজরায়েলি এয়ার স্ট্রাইকে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৪। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পালটা দিতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে হেজবোল্লা। সংগঠনের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইজরায়েলের হাইফা নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।’ শুধু হাইফা নয়, ইজরায়েলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত মিসগাভ ঘাঁটিতেও রকেট বৃষ্টি করেছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। হেজবোল্লার দাবি, দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি ফৌজের লাগাতার অত্যাচারের বদলা নিতেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে। হাইফা ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এদিকে ইজরায়েল সেনার (আইডিএফ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে লড়াই চলাকালীন তাঁদের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ঠিক কীভাবে ওই দুই সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে বিশদ তথ্য দেয়নি তেল আভিভ। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হেজবোল্লা যোদ্ধাদের মরণপণ প্রতিরোধেই ওই দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সর্বাত্মক যুদ্ধে এই প্রথম ইজরায়েলি সেনার মৃত্যুতে আইডিএফ-এর অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। অন্যদিকে লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৪ জনে ঠেকেছে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক বিষয় হল নিহতের তালিকায় রয়েছে ৮৩ জন শিশু। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে ১১৩০-এ পৌঁছেছে। লেবানন জুড়ে ইজরায়েলি বায়ুসেনা লাগাতার এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে হেজবোল্লার পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করলেও, সাধারণ মানুষের মৃত্যুমিছিল জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
ইরানের বিমানবন্দরে ইজরায়েলি হানা, পাল্টা মার্কিন রেডার ওড়ালো তেহরান