নয়া জামানা ডেস্ক: পাঁচ দিন ধরে যুদ্ধের লেলিহান শিখায় জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণের পালটা জবাব দিতে এবার যুদ্ধের ময়দানকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরানের এই চরম হুঁশিয়ারির পর খোদ ভারতের বুকেও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাসে হামলা হতে পারে— এমন আশঙ্কায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।সংঘাতের সূত্রপাত গত শনিবার, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর যৌথ আক্রমণ শুরু করে। এর রেশ ধরে লেবানন সীমান্ত দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালায় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হেজবোল্লা। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ইজরায়েলি সেনার মুখপাত্র আভিশে আদারি লেবাননে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও কর্মীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার চরম সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দেন। অন্যথায় দূতাবাসে সরাসরি হামলার হুমকি দেয় তেল আভিভ।এই হুমকির পর বুধবার মুখ খোলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি ইজরায়েল লেবাননে ইরানের কোনো কূটনৈতিক ভবনে আঘাত হানে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। শেকারচি বলেন, “ইজরায়েল যদি এই স্পর্ধা দেখায়, তবে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় থাকা ইজরায়েলি দূতাবাস আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা বিশ্বজুড়ে হামলা চালাব।ইরানের এই ‘বিশ্বজুড়ে হামলার’ প্রচ্ছন্ন হুমকির পরই ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৯২ সাল থেকে দিল্লিতে ইজরায়েলের দূতাবাস রয়েছে, যেখানে বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত রুভেন আজার। অন্তত ২০০ জন কর্মী সেখানে কাজ করেন। যদিও শেকারচি দাবি করেছেন যে আমেরিকা ও ইজরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রতি ইরানের শত্রুতা নেই, কিন্তু ইজরায়েলকে ‘শিক্ষা দিতে’ ভারতের মাটিতে অবস্থিত দূতাবাসে হামলা চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও, যুদ্ধের এই আবহে সেই সম্পর্ক কতটা অটুট থাকবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ কেবল স্থলেই সীমাবদ্ধ নেই, জলভাগেও ছড়িয়েছে উত্তাপ। বুধবার ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএনএস ডেনা’-এর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। এই ঘটনায় ৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৪৮ জন নিখোঁজ। শ্রীলঙ্কার নৌসেনা ৩২ জনকে উদ্ধার করলেও রণতরীটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশের রণতরী ধ্বংসের পর তেহরান যে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।
ভারত মহাসাগরের এই হামলা ভারতের জলসীমার অত্যন্ত কাছে হওয়ায় নয়াদিল্লির ওপর কৌশলগত চাপ বাড়ছে। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ভারত এখন এক কঠিন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন।