নয়া জামানা ডেস্ক : ২৬ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এবার সরাসরি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটার ছাঁটাই নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দোল ও হোলি উৎসবের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে অমানবিক এবং প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তিনি ভবানীপুর থেকেই লড়বেন এবং এক ভোটে হলেও জয়ী হবেন।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ছক কষা হয়েছে। ভবানীপুরের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম দফার তালিকায় প্রায় ৪৭,০৯৪ জনের নাম বাদ পড়েছে এবং আরও ১৪,১৫৪ জনের নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি প্রায় ৬০ হাজার। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা এই কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম কাটা যাওয়া আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হতে পারে।ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, আমি স্তম্ভিত। এরা ভীতু, তাই পিছন থেকে লড়াই করছে। জেনুইন ভোটার, এমনকি বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া মহিলাদের নামও কেটে দেওয়া হয়েছে। সব তথ্য দেওয়ার পরেও নাম কাটা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছে। তিনি বিএলও-দের উপর চাপের প্রসঙ্গ টেনে জানান, প্রবল মানসিক চাপে কয়েকজন বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর সরাসরি তোপ, মাইক্রো-অবজার্ভাররা বিজেপির অফিসার হয়ে কাজ করছে। মানুষের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।গত ১ মার্চ থেকে রাজ্যে শুরু হওয়া বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা বা রথযাত্রাকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, দিল্লির বিজেপির অফিস থেকে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে আর এখানে ওরা রথযাত্রা করছে। এই রথযাত্রা হবে ওদের শেষ যাত্রা বিনাশ যাত্রা। মমতা আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তবে তিনি হাল ছাড়তে নারাজ। ভোটারদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আমি ধর্নায় বসব, আমায় মোরাল সাপোর্ট দেবেন। আজ আপনার প্রতিবেশীর নাম কেটেছে, কাল আপনারও কাটবে। তবে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি আছে।উৎসবের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। দোল যাতে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে কাটে, তার জন্য ইসকন-সহ সমস্ত ক্লাব ও সংগঠনকে অনুরোধ জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জৈন কমিটির অনুরোধে নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা গেটের পাশে একটি আধুনিক জৈন মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা হ্রাস প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দু’দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর বিধানসভার বিএলএ-১ এবং বিএলএ-২-দের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিয়ে আগামী দিনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।