নয়া জামানা ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আরবদুনিয়া। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগে দিল্লি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (সিসিএস) জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলে খবর একদাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে । গুজরাত, রাজস্থান ও দক্ষিণ ভারত সফর কাটছাঁট করে রাতেই দিল্লি ফিরছেন তিনি। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণের কথা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি যোগ দেবেন এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে । মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলি থেকে কয়েক লক্ষ ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন কেন্দ্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ । সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল উপস্থিত থাকছেন। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় একের পর এক মিসাইল হানা চলায় বহু দেশ বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এই দুর্গম পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারে বিশেষ ‘এয়ারলিফট’ বা উদ্ধারকারী অভিযানের নীল নকশা চূড়ান্ত হতে পারে আজ। একই সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল রফতানি হয়। ইরান এই পথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে এই সঙ্কট মোকাবিলায় ‘বিকল্প রুট’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। খামেনেইর প্রয়াণের পর ইরানের শাসনভার সামলাতে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠিত হয়েছে। সেখানে আলিরেজা আরাফি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং চিফ জাস্টিস গোলামহোসেন মোহেসনি এজেই দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক মহলে চর্চা চলছে ভারতের অবস্থান নিয়ে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফরের পরেই ইরানে হামলা চালান বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, পরে যোগ দেয় আমেরিকাও। এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। যুদ্ধের আবহে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রণক্ষেত্রের মাঝখান থেকে দেশবাসীকে ফেরানোই এখন মোদী সরকারের অ্যাসিড টেস্ট। ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ।