ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • রাজ্য না পারলে কেন্দ্রকে করতে বলব, জলাভূমি রক্ষায় হুশিয়ারি হাইকোর্টের

রাজ্য না পারলে কেন্দ্রকে করতে বলব, জলাভূমি রক্ষায় হুশিয়ারি হাইকোর্টের

নয়া জামানা, কলকাতা : পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণের দাপট রুখতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতায় কার্যত ধৈর্য হারাল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে কড়া অবস্থান নিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্য যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারে, তবে....

রাজ্য না পারলে কেন্দ্রকে করতে বলব, জলাভূমি রক্ষায় হুশিয়ারি হাইকোর্টের

নয়া জামানা, কলকাতা : পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণের দাপট রুখতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতায় কার্যত ধৈর্য....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, কলকাতা : পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণের দাপট রুখতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতায় কার্যত ধৈর্য হারাল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে কড়া অবস্থান নিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্য যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারে, তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ওই নির্মাণ ভাঙা হবে। এদিন আদালত কেন্দ্রকে এই মামলায় পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। জলাভূমি রক্ষায় প্রশাসনের ঢিলেমি নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য, ‘রাজ্য যদি না-পারে আমি কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইব। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ করতে হবে।’

জলাভূমি এলাকায় মাথা তোলা একের পর এক কংক্রিটের জঙ্গল সরাতে আদালতের নির্দেশের পাহাড় জমলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিন শুনানির শুরুতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তার বাইরে আদালত কিছু জানতে চায় না। প্রতিদিন রিপোর্ট খালি জমা হচ্ছে। আমি রিপোর্ট দেখতে চাই না। কী পদক্ষেপ করা হয়েছে সেটা জানতে চাই।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বারংবার নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য ও পুরনিগম কার্যকর পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষের ( ই.কে.ডাবলু.এম.এ) আইনজীবী সোনাল সিনহা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, চৌবাগা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় জনতার আন্দোলনের পাশাপাশি উঠে আসে এক প্রভাবশালীর নাম। আইনজীবী জানান, ‘পার্থ ভৌমিক নামে একজন বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বাধা দিচ্ছে।’ এই প্রসঙ্গে বিচারপতির কড়া জবাব, ‘৫০০-এর বেশি বেআইনি নির্মাণ রয়েছে সেগুলো নিয়ে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে? আমি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভাঙার নির্দেশ দেব। তাছাড়া উপায় নেই। কোন পার্থ ভৌমিক বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে দিচ্ছে না শুনতে চাই না।’

এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক গত ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্ট দেখেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। বিচারপতির স্পষ্ট কথা, ‘আমি আর রিপোর্ট দেখতে চাই না। কী কাজ করা হয়েছে তা জানতে চাই।’ এরপরই মামলার ভবিষ্যৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করে কেন্দ্রকে যুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য যদি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়, তবে সেই কাজ কেন্দ্রকে দেওয়া হবে। আগামী ১৬ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি। শহর কলকাতার পরিবেশগত রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত এই জলাভূমিকে বাঁচাতে আদালতের এই কঠোর অবস্থান নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর