নয়া জামানা , বর্ধমান : রাজ্য জুড়ে যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হতেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক অফিসে উপচে পড়ল ভিড়। বৃহস্পতিবার বেড়ুগ্রাম, জোতশ্রীরাম এবং জারগ্রাম—এই তিনটি অঞ্চলের মানুষের জন্য ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ব্লক অফিস চত্বরে ভিড় জমান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে লাইনের দৈর্ঘ্য ব্লক অফিস ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত গড়ায়। ফলে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন। উপস্থিত ছিলেন বিডিও পার্থ সারথী দে-ও। আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন ছিল জামালপুর থানার পুলিশ বাহিনী। মেহেমুদ খাঁন নিজে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। ব্লক চত্বরে অতিরিক্ত কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা করা হয় যাতে দ্রুত ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়া সম্ভব হয়। ভূমিহীন কৃষক ও যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের লাইনে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। মেহেমুদ খাঁন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও প্রকল্প চালু করলে তা সকলের জন্যই করেন, সেখানে দল বা রং দেখা হয় না। তাঁর দাবি, লাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সকলকে ধৈর্য ধরার আবেদন জানান এবং আশ্বাস দেন যে সকল আবেদনকারীই ফর্ম পাবেন।বিডিও পার্থ সারথী দে জানান, নির্ধারিত দিনের তুলনায় এদিন ভিড় কিছুটা বেশি ছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে তদারকি করেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন।
জামালপুর থানার পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রাজনৈতিক মহলে এই প্রকল্প ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, ভোটের আগে এই প্রকল্প বড় পদক্ষেপ। যদিও বিরোধীদের কটাক্ষও শোনা যাচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিই প্রকল্পের প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
আরও পড়ুন-
বিশ্ব মঞ্চে জামা খুলে বিক্ষোভ কংগ্রেসের, ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধি’ বললেন বাবুল সুপ্রিয়