ব্রেকিং

তারক ঘোষ, বৈষ্ণবনগরের লড়াকু মুখ

টিনা প্রামানিক,নয়া জামানা,মালদা: রাজনীতির সংজ্ঞা অনেকেই দেন ক্ষমতার লড়াই হিসেবে।কিন্তু সত্যিকারের রাজনীতি কখনও শুধু চেয়ার দখলের খেলা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব অঙ্গীকার,দায়িত্ববোধের এক দীর্ঘ যাত্রা।সেই পথেই হাঁটছেন কালিয়াচক-৩ ব্লক–এর এক পরিচিত মুখ। তিনি একাধারে শিক্ষক,সংগঠক, সমাজকর্মী এবং....

তারক ঘোষ, বৈষ্ণবনগরের লড়াকু মুখ

টিনা প্রামানিক,নয়া জামানা,মালদা: রাজনীতির সংজ্ঞা অনেকেই দেন ক্ষমতার লড়াই হিসেবে।কিন্তু সত্যিকারের রাজনীতি কখনও শুধু চেয়ার দখলের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


টিনা প্রামানিক,নয়া জামানা,মালদা: রাজনীতির সংজ্ঞা অনেকেই দেন ক্ষমতার লড়াই হিসেবে।কিন্তু সত্যিকারের রাজনীতি কখনও শুধু চেয়ার দখলের খেলা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব অঙ্গীকার,দায়িত্ববোধের এক দীর্ঘ যাত্রা।সেই পথেই হাঁটছেন কালিয়াচক-৩ ব্লক–এর এক পরিচিত মুখ।
তিনি একাধারে শিক্ষক,সংগঠক, সমাজকর্মী এবং জননেতা। জীবনের শুরুটা হয়েছিল ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে। আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন হাজার মানুষের আশা-ভরসার জায়গায়। চক-ধুলো মাখা হাতই এখন মানুষের স্বপ্ন গড়ার কারিগর।
তাঁর জীবনকাহিনি যেন সংগ্রাম, সততা আর আত্মত্যাগের এক মিশ্র সুর-যেখানে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের কল্যাণ।

শৈশব:মাটির টানে গড়া মন

মালদার গ্রামীণ পরিবেশেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। কানাইনগর, রাজনগর আর কালিয়াচক ৩নং ব্লকেরভসরল জীবন তাঁকে শিখিয়েছে বাস্তবতা। ছোটবেলায় বিলাসিতা ছিল না ছিল সীমিত চাহিদা আর বড় স্বপ্ন।
পরিবারে ছিল শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ।বাবা-মা চাইতেন ছেলে মানুষ হোক,মানুষের জন্য কাজ করুক। সেই ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন গ্রামের মানুষের কষ্ট-চিকিৎসার অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব,শিক্ষার সীমাবদ্ধতা।এই অভিজ্ঞতাই তাঁর মনে বপন করেছিল দায়িত্ববোধের বীজ।
রাজনগর হাইস্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি ছিলেন মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র। শুধু নিজের পড়াশোনা নয়, সহপাঠীদের সাহায্য করতেন নিয়মিত। শিক্ষকরা বলতেন-এই ছেলেটার মধ্যে আলাদা নেতৃত্বগুণ আছে।

উচ্চশিক্ষা:জ্ঞানই শক্তি

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন গৌড় মহাবিদ্যালয়–এ। সেখানেই তাঁর চিন্তার জগৎ আরও বিস্তৃত হয়। ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি এই বিষয়গুলো তাঁকে ভাবতে শেখায় সমাজ নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।পরে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন শিবাজী ইউনিভার্সিটি থেকে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি বুঝেছেন-জ্ঞান শুধু নিজের উন্নতির জন্য নয়, সমাজের পরিবর্তনের জন্যও জরুরি।

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে বি.এড সম্পন্ন করেন গঙ্গারামপুর বি এড কলেজ থেকে। তখন থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল-মানুষ গড়ার কাজ করব।

শিক্ষকতা:পেশা নয়,সাধনা

২০০৮ সালে কর্মজীবনের শুরু রায়গঞ্জ-এর ভগিলতা হাইস্কুলে। প্রথম দিন থেকেই ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো।
শুধু বইয়ের পাঠ নয়-তিনি শেখাতেন শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম।ক্লাস শেষে ছাত্রদের সঙ্গে আলাদা সময় কাটাতেন। দরিদ্র ছাত্রদের ফি মকুব, বই কিনে দেওয়া, বাড়িতে গিয়ে পড়ানো-এসব ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ।
২০১৩ সালে নিজের জেলায় ফিরে এসে মহদিপুর হাইস্কুলে যোগ দেন।এখানেই তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়।

অনেক ছাত্র আজও বলেন-
স্যার আমাদের শুধু পড়াননি, জীবন শিখিয়েছেন।
একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সাফল্য এখানেই-তিনি ছাত্রদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

আদর্শের খোঁজ:সংগঠনের পথে

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে আকৃষ্ট করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ–এর কার্যক্রমে।
সেখানে তিনি শিখেছেন শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, সমাজসেবা এবং সংগঠনের গুরুত্ব। মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ আরও প্রবল হয়ে ওঠে।
তখনই উপলব্ধি করেন-শুধু শিক্ষকতা নয় বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে হলে রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে প্রবেশ:নীরব সূচনা

২০১৩ সালে বীরনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২ নম্বর বুথ থেকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।শুরুতে কোনো পদ বা প্রচার ছিল না-ছিল কেবল দায়িত্ব।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা শোনা,সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, সাধারণ মানুষের কাগজপত্রে সাহায্য করা-এইভাবেই তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন।

তারপর ধাপে ধাপে তাঁর উত্থান—

২০১৪: অঞ্চল কমিটির সদস্য
২০১৬: বিধানসভা নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া দায়িত্ব
২০১৯: সংখ্যালঘু ভোট ব্যবস্থাপনার কনভেনার
২০২০:মালদা জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক
২০২৩: পঞ্চায়েত নির্বাচনে অন্যতম সংগঠক
এই সাফল্য তাঁর পরিশ্রমেরই ফল।

নেতৃত্বের ধরন:কথায় নয়,কাজে

তিনি বিশ্বাস করেন-নেতা মানে সবার আগে দায়িত্ব নেওয়া।
সভা-সমিতিতে জোরালো বক্তৃতার চেয়ে মাঠে নেমে কাজ করাই তাঁর স্বভাব।
গ্রামের রাস্তা, পানীয় জল, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র-প্রতিটি বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমাধান খোঁজেন।কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন।

তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে, বেড়েছে মানুষের আস্থা।

করোনা ও বিপর্যয়ে মানবিক মুখ

করোনা মহামারির সময় তাঁর কাজ সবচেয়ে বেশি নজরে আসে।যখন মানুষ ঘরে বন্দি, তখন তিনি রাস্তায়।অক্সিজেন সিলিন্ডার,ওষুধ,খাবার-সব পৌঁছে দিয়েছেন নিজে হাতে।
বন্যায় ত্রাণ, শীতে কম্বল, অসহায়দের আইনি সহায়তা-সবক্ষেত্রেই তিনি সামনে।
তিনি বলেন,মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই আসল রাজনীতি।

সংস্কৃতি ও খেলাধুলা:সমাজ গঠনের মাধ্যম

তিনি মনে করেন সুস্থ সমাজ গড়তে সংস্কৃতি ও খেলাধুলার প্রয়োজন।তাই এলাকায় নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উৎসবের আয়োজন করেন।
যুবকদের মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে এই উদ্যোগ তাঁর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সরল জীবন,বড় হৃদয়

আজও তাঁর জীবন অত্যন্ত সাধারণ।কোনো বিলাসিতা নেই। সাধারণ পোশাক, সাধারণ চলাফেরা।
মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যান। চায়ের দোকানে বসে গল্প করেন, সমস্যার সমাধান করেন।
এই সহজ-সরল জীবনই তাঁকে মানুষের আরও কাছের করে তুলেছে।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন

তিনি চান-কালিয়াচক-৩ নং ব্লকে উন্নত শিক্ষা,ভালো রাস্তা,চিকিৎসা পরিষেবা
কর্মসংস্থান
এই চারটি ক্ষেত্রেই কাজ করতে।
তাঁর কথায়-পদ আমার লক্ষ্য নয়, মানুষের হাসিই আমার পুরস্কার।
একজন শিক্ষক যখন জননেতা হন তখন রাজনীতির ভাষা বদলে যায়। সেখানে থাকে মানবিকতা, দায়িত্ব আর সেবা।
চকের দাগ থেকে জনতার ডাক-এই যাত্রা প্রমাণ করে সৎ ইচ্ছা থাকলে মানুষই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি শুধু একজন নেতা নন-
তিনি মানুষের ভরসা,গ্রামের আশা,আগামী দিনের প্রেরণা।

আর তাই আজ কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের মানুষ তাঁকে শুধু রাজনীতিক হিসেবে নয়,নিজেদের পরিবারের একজন হিসেবেই দেখে।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর