ভরত বেরা, নয়া জামানা, পশ্চিম মেদিনীপুর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিনোদনের ধরণ বদলে গেছে। একসময় সিনেমা দেখা ছিল একটি সামাজিক উৎসবের মতো। পরিবার, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার আনন্দ ছিল ভিন্নরকম। সাদা-কালো সিনেমার যুগে সিনেমা হল ছিল মানুষের আড্ডার অন্যতম কেন্দ্র। টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন, ‘ব্ল্যাক টিকিট’-এর রমরমা—সব মিলিয়ে থাকত এক বিশেষ উত্তেজনা।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ছায়া মহল সিনেমা হল একসময় বেলদা এলাকার সিনেমাপ্রেমীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। বাংলা, হিন্দি ও উড়িয়া সিনেমা এখানে দেখানো হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চেপে সিনেমা দেখতে আসতেন। মাত্র ১০ বা ১৫ পয়সার টিকিটে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আজকের দিনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তখন সেটাই ছিল বিনোদনের বড় উৎস।
সিনেমা হলে প্রজেকশন মেশিনের ঘড়ঘড় শব্দ, রিল বদলের সময় সামান্য বিরতি—এসবই দর্শকদের কাছে ছিল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই জৌলুস ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতি ও মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখার অভ্যাস বাড়ায় একক-স্ক্রিন সিনেমা হলের জনপ্রিয়তা কমে যায়।
আজ ‘ছায়া মহল’ সিনেমা হলের ভেতরে ধুলো জমে আছে। ভাঙা আসন, অন্ধকার করিডোর আর নিঃশব্দ দেয়াল যেন অতীতের গল্প শোনায়। তবুও এই পুরনো সিনেমা হল আজও দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতির সাক্ষী হয়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে হয়তো সিনেমা মানে মোবাইল স্ক্রিন, কিন্তু প্রবীণদের কাছে বড় পর্দার সেই রোমাঞ্চ আজও অমলিন।
বেলদার মানুষদের স্মৃতিতে ‘ছায়া মহল’ আজও একটি আবেগের নাম হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন-
কঠিন লড়াইয়ে ভেঙে পড়ল ব্যাটিং, সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হার ভারতের