নয়া জামানা , জালপাইগুড়ি : ধূপগুড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে চলা কুমলাই নদী একসময় ছিল এই জনপদের প্রাণ, জীবিকা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই নদীই আজ পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই যখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। শহরের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত কুমলাই নদী বর্তমানে চরম অবহেলার শিকার। অভিযোগ উঠেছে, ধূপগুড়ি পৌরসভা-র গাফিলতির জেরে নদীর বুকে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। প্লাস্টিক, পচনশীল বর্জ্য, নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে জল নিষ্কাশনে বড়সড় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই জমে থাকা বর্জ্যে প্রায়শই আগুন লাগানো হচ্ছে। ফলে ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে আশপাশের এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, এই ধোঁয়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী সংলগ্ন বাসিন্দারা। যে কোনও মুহূর্তে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। বারবার সংবাদ শিরোনামে বিষয়টি উঠে এলেও কোনরকম পদক্ষেপ এখন চোখে পড়েনি। নদী রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা কঠোর নজরদারির অভাব স্পষ্ট। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রশাসনের এই দীর্ঘদিনের উদাসীনতার ফলেই আজ ঐতিহ্যবাহী কুমলাই নদী অস্তিত্ব সংকটে। ধূপগুড়ির সামাজিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কুমলাই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ নদী বাঁচানোর বদলে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শহরবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন চলবে এই অবহেলা? কবে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? কুমলাই নদীকে বাঁচাতে অবিলম্বে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা। নইলে ধূপগুড়ির এই জীবনরেখা একদিন সত্যিই কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন-
শুভেন্দুর নিশানায় ‘বালি-সিন্ডিকেট’, বীরভূমে বিঁধলেন কাজল–অনুব্রতকে